মর্নিংসান২৪ডটকম Date:০২-০৫-২০১৫ Time:৬:৫৯ অপরাহ্ণ


111 copy(1)তাপস দে আকাশ: আগামি কাল ৩ মে পটিয়ায় উপজেলার খরনা ইউনিয়নে মুজাফরাবাদ গ্রামে ১৯৭১সালে পাক হানাদার বাহানী গণ হত্যা চালিয়ে ৩৫১ জনকে হত্যা করে।শহীদের স্নরণে , গনহত্যা দিবস পালন উপলক্ষ্যে সামাজিক সংগঠন “সমন্বয়” ও পটিয়া উপজেলা প্রশাসন এর যোথ উদ্যোগে দিন ব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয় ।
মুজাফরাবাদ গ্রামবাসি সূত্রে জানাযায়,১৯৭১সালে ৩ মে ভোরে মুজাফরাবাদ গ্রামে ৩৫১ জন নারি পুরুষ কে হত্যা করে পাকাস্তনী হানাদার বাহানী।ত্রই দিন সকাল ৬ টা থেকে তান্ডব শরু হলে তা চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। তান্ডব রক্ষা পাইনি ছাত্র,যুবক থেকে শুরু করে ৮৫ বছরে বৃদ্ধ পর্যন্ত ।এই গ্রামটি ১১ ঘন্ট হত্যাযজ্ঞ চালায় পাক হানাদার বাহানী ।গ্রামে থেকে ১১ ঘন্ট দরে শোনা গেছে শধু গুলির শব্দ। সাথে কান্নার রোল।রক্তাক্ত হাজার হাজার মানুষ ।গ্রামটির চারিদিকে জ্বলছে আগুন ।পুড়ছে ঘর লাল হয়ে গেছে গাছ পালা।লাশের পর লাশ।মা-বাবাকে বেঁধে চোখের সামনে মেয়কে র্ধষন ।বাবার সামনে ছেলেকে হত্যা । মুজাফরাবাদ গ্রামেটি জুরে শুধু লাশের গদ্ধও রক্তরে শ্রোত । আলোকিত গ্রাম মুজাফরাবাদ এই গ্রামেরে জনসংখ্যা ৯৮ ভাগ ছিল তখন হিন্দু । গ্রামটি শিক্ষা ও ক্রীড়া ভূমিকা ছিল তখন থেকে । পাক হানাদার বাহানী সাথে রাজাকার,আলবদর মিলে পাখির মত মানুষ মারছে গ্রামটিতে সে দিন। ঐদিনে নিহত হয় রবিন্দ্র বিশ্বাস, পরান হরি বিশ্বাস, নোটন চন্দ্র ঘোষ, রোহিনী দত্ত, অনিল চক্রবর্তী,রঞ্জন সেন,নবীন চন্দ্র,বীরেন্দ্র দত্ত, শংকর প্রসাদ সেন, উপেন্দ্র কর, মনিন্দ্র চৌধুরী, যতিন্দ্র দাশ, রায় মোহান বিশ্বাস, সুরাবালা চৌধুরী, দয়াল চৌধুরী, নির্মল সেন, উপেন্দ্র সেন, নিরঞ্জন বিশ্বাস, দীপক সেন , সুরেন্দ্র সেন , নিকুঞ্জ দাশ, আশীনি দাশ, বির্নিমল দাশ,উপেন্দ্র লাল চৌধুরীসহ ৩৫১ জন শহীদ হন। এই দিন বিকাল হতে হতে গ্রামের চারদিকে লাশ আর লাশ।বাঙ্গালির প্রাচীন ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবময়। এদেশে ছিল গোয়াল ভরা গরু, গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ, আঙ্গিনা ভরা গাছ। বাংলার সম্পদের লোভে বৃটিশ বেনিয়ারা আমাদের দেশটার ক্ষমতা কেড়ে নেয়। তারপর দু’শত বছর সংগ্রামের ইতিহাস, বৃটিশরা লেজ গুটিয়ে পালালো। কিন্তু ভাগ করে দিয়ে গেল দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দুটি দেশ ভারত ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের একটি প্রদেশ পূর্ব পাকিস্তান। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের এক মাত্র বন্ধন ধর্ম, ইসলাম।পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা বাংলা, পশ্চিম পাকিস্তানের ভাষা উর্দু। ধর্মের দোহাই দিয়ে দমন নীতি, অত্যাচার, নিপীড়ন, নির্যাতন, সমস্ত সম্পদ লুট করে পূর্ব পাকিস্তান কেড়ে নিয়ে যাওয়া। বাঙ্গালীদের চকুরির যোগ্যতা অনুসারে স্থান না দেওয়া। ভাষা হবে উর্দু, বাংলা নয়। মাতৃভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বুকের রক্ত দিয়ে বাঙ্গালি প্রমাণ করলো বাঙ্গালিরা বীরের জাতি। তার পর শুরু হলো ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙ্গালি অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ৬ দফা দাবি। ১৯৬৯ সালে গণ আন্দোলন।১৯৭০ এর নির্বাচনের মাধ্যমে বাঙ্গালি ক্ষমতা পেয়েও সংখ্যগরিষ্ট দল হিসেবে ক্ষমতা না দিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো। ১৯৭১ এর ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা দিলেন “এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, তোমাদের যার যা কিছু আছে তা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ো”। ২৫শে মার্চ কাল রাত্রে পাকিস্তানি হানাদারেরা নিরীহ বাঙ্গালিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ভারি অস্ত্র নিয়ে, মেতে উঠে পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞে। শহরে-নগরে,গ্রাম-গঞ্জে, তারা আক্রমণ করতে লাগলো নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধাকে পর্যন্ত। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে স্বাধীনতা ঘোষণা করলো। সেই ঘোষণা পত্র বাংলাদেশের রেডিও কালুরঘাট সম্প্রচার কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন পাঠক সময়ে সময়ে বাঙ্গালিকে উদ্বিপ্ত করার জন্য ঘোষণা পত্র পাঠ হলো।যুদ্ধ শুরু হয়। পাক হানাদার বাহিনী চিনত না বাংলার অলি গলি, তাদের চিনিয়ে দিচ্ছে জামায়েত ইসলামী নামের একটি সংগঠনের নেতারা । তাদের গঠিত শান্তি কমিটির মাধ্যমে রাজাকার, আলবদর, আলসামসৃ মুজাহিদ বাহিনী গঠন করে তাদেরকে নিয়ে, গ্রাম জালিয়ে দিচ্ছে, হত্যা করছে যুবক ছাত্রদের, ধর্ষণ করে মা-বোনদের।পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের একটি আলোকিত গ্রাম মুজাফরাবাদ। গ্রামটি শিক্ষা, সংস্কৃতি, নাট্য ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে দক্ষিণ চট্টগ্রামে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকতো। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৬ এর ৬ দফা আন্দোলনে ৬৯’র গণ আন্দোলনে এই গ্রামের শিক্ষক, সংস্কৃতি কর্মী, নাট্যকর্মী, ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলো আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করে থাকেন। ২৬শে মার্চ থেকে আরাকান সড়ক অবরোধ বাঙ্গালি সেনাবাহিনীদের চালডাল সংগ্রহ, মুক্তি বাহিনী গঠন কল্পে গ্রামের শত শত যুবক শপথ গ্রহণ করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে। মুক্তিযোদ্ধা এবং বাঙ্গালি সেনাবাহিনীরা এর মধ্যে পটিয়া কলেজকে ক্যাম্প হিসাবে রেখে পাক বাঙ্গালিদের প্রতিরোধ গড়ে তুলছিল। তখন থেকে এই গ্রামের তরুণ যুবকেরা মুক্তিযোদ্ধা ও বাঙ্গালি সেনাবাহিনীদের সাথে থেকে সাহায্য সহযোগিতাসহ মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণেরজন্য আগ্রহ প্রকাশ করতো।১৬ই এপ্রিল পাক হানাদার বাহিনী পটিয়া কলেজ তার আশেপাশে বিমান হামালা ও বোম্বিং শুরু করে। মুক্তিবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয় এবং তারা পেছনের পাহাড়ে আশ্রয় নিয়ে প্রতিরোধ পরিকল্পনা করতে থাকে। মুজাফরাবাদ গ্রামের যুব জনতার মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার যাবতীয় অতিরঞ্জিত তথ্য পাক হানাদার বাহিনীর চট্টগ্রামস্থ কমান্ডারকে অবহিত করেন। স্থানীয় তৎকালীন প্রভাবশালী শান্তি বাহিনীর এক নেতা, তিনি পাক বাহিনীকে বুঝাতে সক্ষম হন যে, এই গ্রামের সবাই হিন্দু মুক্তিযোদ্ধা, এখানে পাঁচ হাজার লোক বাস করে। যদি গ্রামটিকে চারিদিকে থেকে ঘিরে হিন্দু জোয়ান ও মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা যায় এবং গ্রামাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা যায় তাহলে চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধদের একটি শক্ত ঘাঁটি ধ্বংস করা যাবে। সেই নেতার নীল নকশায় পাক হানাদার বাহিনী ৩রা মে ভোর ৬টায় ঘিরে ফেললো মুজাফরাবাদ গ্রাম। ২৫শে মার্চ থেকে স্থানীয় রাজাকার, আলবদর, আলসামস্দের মাধ্যমে শান্তি বাহিনীর ঐ নেতার নেতৃত্বে রাত্রে বহুবার আক্রমণের ও লুটতরাজ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু গ্রামবাসী ছাত্র যুবকদের প্রতিটি রাতে প্রতিরোধর মুখে সফল হতে পারে নি। ২রা মে প্রতিদিনের ন্যায় সারা রাত্রি সকলে পাহারা দিয়েছিল গ্রামকে রক্ষা করার লক্ষে। ভোর ৫টার দিকে সবেমাত্র সবাই ঘুমাতে গেছে। আর সেই ভোর ৫টা. ৩রা মে পাক হানাদার বাহিনী তাদের এদেশীয় এজেন্টদের নিয়ে গ্রামটিকে তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে।গ্রামের পূর্বদিকে আরাকান সড়কে বসায় ভারি ভারি ৬টা কামান, গ্রামের উত্তর সীমান্ত রাস্তা তমাল তলা আশ্রমের সামনে দিয়ে পশ্চিমের দিকে শেষ সীমান্ত পর্যন্ত। মেশিনগান বসিয়েছে স্তরে স্তরে যাতে গ্রাম থেকে কোন লোক পূর্ব ও উত্তর দিকে পালাতে না পারে। অন্যদিকে গ্রামের পূর্ব দক্ষিণ সীমান্ত রাস্তা চারা বটতলা দিয়ে ভারি মেশিনগান নিয়ে পাক হানাদারেরা গ্রামটিকে ঘিরে ফেলে সোজা পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত, যাতে কেউ গ্রামের দক্ষিণ দিকে পালাতে না পারে। শুধুমাত্র গ্রামের পশ্চিম দিকটা খোলা ছিল যা দিয়ে হাজার হাজার লোক প্রাণে রক্ষা পেয়ে থাকে। হানাদার বাহিনী গ্রামে তিন সীমান্ত ঘিরে মুজাফরাবাদের মূল রাস্তা দিয়ে ভারী অস্ত্রসহ জিপ নিয়ে ঢুকে পড়ে। তখন সকাল ৬টা কি সাড়ে ৬টা হবে।
পত্যক্ষর্দশি সুনিল সেন বলেন, ১৯৭১সালে আমার বয়স তখন ২৮ বছর।পাক হানাদার বাহানী সাথে রাজাকার,আলবদর মিলে পাখির মত মানুষ মারছে গ্রামটিতে।আমার চোখের সামনে খুন করেছে আমার ৮ মাস বয়সের ছেলেকে । আগের রাত হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ছিল। পূর্বদিকে সূর্য মেঘের আড়ালে পড়ে রশ্মিগুলি রক্তাক্ত রং নিয়ে গাছের পাতাগুলোতে আছড়ে পড়েছে, মনে হচ্ছে যেন আজকের ভোর হবে রক্তাক্ত ভোর। ভারী কামান, মেশিনগান, এলএমজি গোলার শব্দে যেন গ্রামটি হঠাৎ কাঁপতে থাকলো। কে কোথায় যাবে, কে কোথায় পালাবে সেই কথাটি বলার কারো উপায় নাই। নিয়ে ইজ্জতের ভয়ে পিছনের দিকে পালাতে থাকে, আমি কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। মনে হয় এই বুঝি গোলা এসে পড়লো। পূর্ব দিক তাকাতেই দেখা গেল ধাউ ধাউ করে আগুন জ্বলছে। পুড়ে যাচ্ছে পূর্ব পুরুষদের স্মৃতি চিহ্ন। বাতাসে বারুদের গন্ধ।কান্নার রোল, শুধু গুলির শব্দ ও হাহাকার, আমি গ্রামেকে বড় ভালোবাসি, আমার শিকড়কে আমি বড়ো ভালবাসি। আমি পারছি না আমার বাড়িকে ফেলে যেতে, আমার বাড়িও জ্বলবে দাউ দাউ করে ঐ বাড়িগুলোর মতো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে শত বছরের সব।এগুলো মাথায় আসতে আসতে দেখলাম আমাদের বাড়ির সামনের ব্রিজের কাছে ছয়জন পাক সেনা বন্দুক নিয়ে জোর পায় আমাদের বাড়ির দিকে আসছে, পেছনের দিকে প্রাণপণে দৌড়। আমার বুঝতে বাকী রইল না আমাদের গ্রামের পূর্ব ও মধ্য পাড়ার অবস্থা, কেননা আমাদের বাড়ি সর্ব পশ্চিম সীমান্তে।আমাদের পেছনে আশাতা গ্রাম । সেই বিলের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ রক্তাক্ত, কান্নার রোল, প্রাণ বাঁচানোর চিৎকার, কে শোনে কার কথা, দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে, ঘর বাড়ি পুড়ছে, মনে হচ্ছে সামনে প্রলয় ।গুলির শব্দের সাথে সাথে কান্নার রোল। পাক বাহিনীদের সাথে তাদের দোসর রাজাকার, আলবদরেরা লুঠ করে নিয়ে যাচ্ছে নারী পুরুষের শেষ সম্বল টাকা সোনার রূপা থেকে পাতিল, কাঠ ফার্নিচার, ঘরের দরজা, জানালা, কাঁঠাল, সুপারী থেকে আরম্ভ করে দা-বটি পর্যন্ত । রাস্তায় রাস্তায় মা বোনদের সম্ভ্রম হানির চেষ্টা করছে। ইতিহাসের জঘন্য সাক্ষী নরপিশাচেরা কিভাবে এত নীচ হতে পারে তা দুচোখে না দেখলে কল্পনা করা দুস্কর। সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমাদের গ্রামের কিছু সংখ্যক সমাজসেবী যুবক পার্শ্ববর্তী মুসলিম বন্ধুদের নিয়ে গ্রামে প্রবেশ করেছে। অতি সাহসের সাথে তারা পাড়ার খোজ খবর নিচ্ছে। তখন তাদের সাথে যোগ দিয়েছে উদ্ধার কাজে আমাদের পার্শ্ববর্তী গ্রামে খরনা, শোভনদন্ডী, আশাতা, রশিদাবাদ, কাঞ্চনাবাদ, আজিমপুর গ্রামের স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। জারা তখন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, তাদেরকে আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি। আর যারা লুটপাট ও হত্যা যজ্ঞে সহায়তা করেছিল তাদের আমরা ঘৃণা করছি। ৩রা মে সেই ভয়াল রাত। শৃগাল লাশ টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আহদের আর্ত চিৎকারে, স্বামী হারা স্ত্রীর কান্নায়, সন্তান হারা মায়ের কান্নায়, চারিদিকে যেন ভয়ার্ত পরিবেশ। শুধুমাত্র একটি জায়গায় ১১০ উপর লাশ, ব্যানট ও গুলি করে সবাইকে হত্যা করা হয়েছে, বেশির ভাগ লাশ পুকুরে, অথবা রাস্তার পাশে মেরে রাখা হয়েছে। অধিকাংশদের ঘরে আগুন দিয়ে আগুনের মধ্যে জীবন্ত পুড়ে মেরেছে ৫০ জনের অধিক।। আমরা স্মরণ করছি সে ইতিহাসের নির্মম জঘন্যতম দিন ৩রা মে। একটি মাত্র গ্রাম থেকে হানাদার বাহানী ৩ শতাধিক নারী শিশু পুরুষকে গণহত্যা করেছে। আহত করেছে ৫ শতাধিক নারী পুরুষকে, ঘরবাড়িসহ পুড়িয়ে দিয়েছে ৫ শতাধিক পরিবারকে। লুট করেছে প্রায় ২২০ পরিবার এর ঘরবাড়ি। এ গ্রামের ৮০০ পরিবারের মধ্যে এমন কেউ নেই যে অক্ষত আছে। একটি রাত ছাউনির নিচে মাথা গুঁজে থাকতে পারবে, দু’মুটো ভাত এই ক্ষমতা নেই কারও। আজ স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা মাথা উঁচু করে বলতে পারি ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে রয়েছে আমাদের গ্রামের ৩০০ শহীদের রক্ত। তিন লক্ষ মা বোনের ইজ্জত হারানোর মধ্যে আমাদের ২ শত মা বোনের ইজ্জতের অংশীদারীত্ব রয়েছে। আমাদের আছে মুক্তিযোদ্ধা। যারা ৯ মাস দেশের জন্য যুদ্ধ করেছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায়। ৩রা মে কে মুজাফরাবাদ গণহত্যা দিবস হিসাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে সরকার এই দিনটি পালন করছে। সরকারি অর্থে নির্মিত হয়েছে ৩ শত শহীদের স্মৃতি রক্ষার্থে শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার।গণ হত্যার বধ্যভূমিটি সরকারি স্বীকৃতি দিয়ে স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর হলেও শহীদদের যোগ্য সম্মান সরকারিভাবে দেওয়া হচ্ছে। ৩রা মে উদ্যাপন পরিষদের আহবায়ক রতন কর ও মুজাফরাবাদ ‘সমন্বয়ের সাধারন সম্পাদক বিপ¬ব সেন চট্টগ্রাম নিউজকে বলেন গনহত্যা দিবস” পালন উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের ন্যায় ’মুজাফরাবাদ’ গ্রামের সামাজিক সংগঠন “সমন্বয়” ও পটিয়া উপজেলা প্রশাসন এর যোথ উদ্যোগে দিন ব্যাপি কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়।সকাল ৮ টায় শহীদ স্মৃতি স্মম্ভ প্রাঙ্গনে শহীদদের স্মরণে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান, সকাল ১০টায় “সমন্বয়” ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাম্মৎ রোকেয়া পারভীন এবং পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রেফাফেত উল্লাহ চৌধুরী এর উদ্যোগে শহীদ বেদীতে পুস্পমাল্য অর্পণ ও গার্ড অব অনার প্রদান , বিকাল ৩ টায় গণসংগীতানুষ্ঠান, ৫ টায় স্মরণসভা, শহীদ পরিবারকে সহায়তা প্রদান ও কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কার বিতরন করা হবে । স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শামশুল হক চৌধুরী, এম,পি ।অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় উপ কমিঠির সহ-সম্পাদক – জনাব দিদারুল আলম,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, কেন্দ্রীয় কমিঠির সদস্য রিটু দাশ বাবলু ও চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রসায়ন বিভাগের অধ্যাপিকা ড. তাপসী ঘোষ রায় ।

 

পাস্তুরিত দুধ নিয়ে কারসাজি আছে কি না দেখা উচিত: প্রধানমন্ত্রী» « চান্দগাঁওয়ে ডোমখালী খালে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু» « পাকিস্তানে সামরিক বিমান বিধ্বস্তে নিহত ১৭, আহত ১২» « র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ধর্ষণকারীর নিহত» « গুজব রটনাকারীদের ধরিয়ে দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর» « লামায় বন্যা ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ» « কক্সবাজার শহর রক্ষায় ঝাউবন করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর» « দেশের সব উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর» « সিঙ্গাপুরে ওবায়দুল কাদেরের স্বাস্থ্যের আশানুরূপ উন্নতি» « প্রাইভেটকারে করে এসে ছিনতাইয়ের চেষ্টা, ৩ জনকে গণপিটুনি» «