কেউ কিছু পাওয়ার জন্য আসলে সরে যান : নাছির

nasir-11-05-15চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নব-নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে নতুন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, ‘সেবা ও ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে এসেছি। দেওয়ার জন্য এসেছি। কেউ যদি কিছু পাওয়ার জন্য আসে সময় থাকতে সরে যান। যারা কিছু পাওয়ার জন্য এসেছেন তাদের সময় আসলে সরে যেতে বাধ্য হবে । যারা নিষ্টার সাথে কাজ করবেন, তারা হবেন আমার প্রিয়জন।’
সোমবার বেলা ১টার দিকে নগরীর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিটিউট হলরুমে মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘করপোরেনের কর্মকর্তাদের বলেছি বেতন নিয়ে সন্তুষ্ট হতে হবে নয়তো চলে যেতে হবে। এসব নিয়ে আমি আপোষ করবো না।’
আ জ ম নাছির বলেন, ‘মেয়র পদে এ বিজয় আমার একার নয়, এ জয় আওয়ামী লীগের, ১৪ দলের ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির বিজয়। আমার সাফল্য-ব্যর্থতার সাথে আওয়ামী লীগের ও প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি জড়িত। এ বিষয়টা মাথায় রেখে আমি কাজ করছি।’নতুন মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, ‘অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজকের পর্যায়ে এসেছি। ২০১৩ সালের একটি কঠিন সময়ে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছি। অনেকের অনেক আশংকা ছিল, অনেকের অনেক ধারণা ছিল। কিন্তু সবার ধারণা ভেঙে দিয়ে আমি দায়িত্ব পালন করেছি। ঠিক সেভাবে দলমতের উর্ধ্বে উঠে শতভাগ নিষ্টার সাথে আমি করপোরেশন পরিচালনা করবো।’
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের মেয়রের পদমর্যাদা এখনো নির্ধারণ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন চসিকের মেয়রকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদা দেয়ার চিন্তা করছেন। এই স্ট্যাটাস ছাড়া আমি কোন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করবো না। করপোরেশনের সাথেও আমার দূরতম বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকবে না।’
নিজেকে বনেদী পরিবারের সন্তান দাবি করে আ জ ম নাছির বলেন, ‘আমি বনেদী পরিবারের সন্তান। আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছেন। আমার পূর্ব পুরুষের, পরিবারের এত সম্পত্তি আছে যে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ পরিবারের আর কারো তা নেই।। মেয়র করায় সবার কাছে আমি ঋণী। জীবন দিয়ে হলেও এ ঋণ আমি শোধ করতে চাই। এজন্য সবার সহযোগিতা চাই।’
তিনি বলেন, ‘২৮ এপ্রিল মেয়র নির্বাচনের পর কে মেয়র হিসেবে আমাকে প্রটোকল দেয়া হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে আপনার আমার মধ্যে পরিবর্তন দেখেছেন কি না আপনারাই বলুন। যতবেশী বিনয়ী ও মার্জিত হওয়া সম্ভব আমি হবো। এজন্য আপনাদের কাছে দোয়া ভিক্ষা চাচ্ছি।’
মেয়র নাছির বলেন, ‘করপোরেশনের দায়িত্ব নিতে হয়তো ২৫ জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এরমধ্যে প্রতিদিন করপোরেশনের সাথে আমি যোগাযোগ রাখছি। বাইরে থেকে যতটুকু সম্ভব প্রতিদিন কর্মকর্তাদের আমি নির্দেশ দিচ্ছি। ২৮ এপ্রিলের পর থেকে নগরীতে পরিবর্তন এসেছে। আগের চেয়ে ময়লা-অবর্জনা পরিষ্কার হচ্ছে বেশী। আরো বেশী পরিষ্কার হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেয়ার আগেই বর্ষা শুরু হবে। এত অল্প সময়ের মধ্যে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান অসম্ভব। নালা নর্দমা ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এ বর্ষায় সেটা সম্ভব নয়। এজন্য প্রকল্প নেয়া, টেন্ডার আবহান করাসহ অনেক কাজ আছে। অল্প সময়ে সেটা সম্ভব নয়। জলাবদ্ধতার ব্যাপারে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। যত্রতত্র পলিথিন ফেলার ফলেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।’
আ জ ম নাছির বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে চাক্তাই খালের পেছনে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। কিন্তু কাজ হয়নি। অপরিকল্পিত কোন কাজ করবো না। পরিকল্পিতভাবে কাজ করবো। এজন্য অপেক্ষা করতে হবে। বর্জ্য থেকে সার, গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে সিটি করপোশেনের আয় বাড়ানোর চিন্তা করছি।’
উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হবে জানিয়ে আ জ ম নাছির বলেন, ‘একটা উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হবে। সাবেক মেয়ররা থাকবেন এই কমিটিতে। এছাড়া সমস্যা সমাধানে যাদের ধারণা আছে তাদেরও রাখা হবে কমিটিকে। এটা অলংকারিক কমিটি না, কার্যকর কমিটি হিসেবে গঠন করবো।’
আ জ ম নাছির বলেন, ‘আমি ভুল করে থাকলে আপনাদের বক্তব্য-পরামর্শ র্নিদ্বিধায় আমাকে দিতে পারবেন। কিন্তু কোন ধরনের উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত হয়ে কাজ করবেন না। কোন প্রশ্ন থাকলে সরাসরি আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। আমি কিছু মনে করবো না। আমি ব্যবস্থা না নিলে আপনারা যা খুশি করতে পারবেন।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নাছির বলেন, ‘আপনারা এমন কিছু কাজ করছেন যাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষন্ন হচ্ছে। এমন কাজে থাকলে তাদেরকে সরিয়ে দেয়া হবে। মহিউদ্দিন ভাইসহ সবার সাথে বসে যোগ্যদেরকে আমরা সংগঠনের দায়িত্বে আনবো।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামের উন্নয়নে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নয়তো আমরা জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলবো। ৫০ লক্ষ মানুষের উন্নয়ন করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থান আমরা যাতে নিশ্চিত করতে পারি সেজন্য আল্লাহ আমাদের হিম্মত দিক। উন্নয়ন কর্মকা-ে নির্বাচিতদেরকে সহযোগিতা করবো।’এতে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য এম ইসহাক মিয়া, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, বিএমএ নেতা মুজিবুল হক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম মো. জাহাঙ্গীর প্রমুখ।এছাড়া নব-নির্বাচিত কাউন্সিলর, নগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, ও ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন সংবর্ধনা