স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত বিমানবন্দরের ৬ সিন্ডকেট

imagesএ.এইচ.এম. সুমন চৌধুরী চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর স্বর্ণ পাচারে বিমানের ছয় কর্মকর্তার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে তা প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। এদের মধ্যে দু’জন হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকি চারজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।
স্বর্ণ পাচার সিন্ডকেটের প্রধানরা হলেন বাংলাদেশ বিমানের ট্রাফিক সহকারি মো.শেখ কামাল, মো.বেলাল হোসেন, পরিমল, মো.শফিক, জসীম এবং সেলিম। বিমানে করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আনা স্বর্ণ নির্বিঘ্নে বিমানবন্দর পার করে দেয়ার দায়িত্ব পালন করে বিমানের এ ছয়জন কর্মচারি। প্রতি চালান পার করার জন্য বিমান কর্মচারিরা নেয় ৬০ হাজার টাকা থেকে এক লক্ষ টাকা। স্বর্ণের পরিমাণ বেশি হলে বিমানবন্দর পার করার চার্জ ১০-২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্র
জানা যায়্ ।ছয় কর্মকর্তার মধ্যে শেখ কামাল ও বেলালকে গত ৩ মে শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের ৪০টি স্বর্ণের বারসহ আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ পরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বনজ কুমার মজুমদার বলেন, বিমানের যে দু’জন কর্মকর্তা আটক হয়েছেন তাদের কাছ থেকে আমরা আরও কয়েকজনের নাম জানতে পেরেছি। তারা সবাই বিমানের ক্যাজুয়াল স্টাফ। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে বাংলাদেশ বিমানের চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপক মো.আলাউদ্দিন কোন মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, ‘যে দু’জন ধরা পড়েছে আমরা তাদের বরখাস্ত করেছি। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৩ মে গ্রেপ্তারের দু’দিন পর বেলাল ও শেখ কামাল বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের হওয়া মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মো.ফরিদ আলমের আদালতে জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে বেলাল নিজেসহ মোট ছয়জনের নাম প্রকাশ করে। আর শেখ কামাল নিজেসহ পাঁচজনের নাম প্রকাশ করে। পুলিশ সূত্রে অারো জানা গেছে, নাম প্রকাশ হয়ে যাবার পর পরিমল, শফিক এবং জসীম পালিয়ে গেছেন। আর সেলিমের বিষয়ে পুলিশ আরও বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছে। সূত্রমতে, সেলিম, বেলাল ও শেখ কামাল প্রায় ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ বিমানের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত আছে এবং শফিক, পরিমল, জসিম প্রায় ১০ বছর ধরে বিমানে কর্মরত আছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের তথ্যের প্রমাণ মিলেছে বেলাল ও শেখ কামালের দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে।
বেলাল জবানবন্দিতে জানায়, গত ৩ মে স্বর্ণের চালানসহ বেলাল আটকের ১৫-২০ দিন আগে টিপু নামে এক চোরাচালানির সঙ্গে সেলিমের মাধ্যমে তার পরিচয় হয়। টিপু বেলালকে দায়িত্ব দেয়, ৩ মে সকালে দুবাই থেকে মো.ইউসুফ নামে এক চোরাচালানি আসবে। তার কাছ থেকে স্বর্ণ নিয়ে বিমানবন্দর পার করে দিতে পারলে বেলালকে ছয় হাজার টাকা দেবে।
কথামত বেলাল বিমানের আরও চার ট্রাফিক সহকারি শফিক, জসীম, পরিমল এবং শেখ কামালকে তার সহযোগী হিসেবে নিযুক্ত করে। স্বর্ণের বারগুলো বিমানবন্দর পার করে দিতে পারলে তাদের ৬০ হাজার টাকা দেবে বলে মৌখিক চুক্তি হয়।
৩ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরিকল্পনামত বেলাল কনভেয়ার বেল্টের বাইরে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ইউসুফ বিমান থেকে নেমে কনভেয়ার বেল্টের কাছে আসে। টিপুর বর্ণনা অনুযায়ী চিনতে পেরে সংকেত দেয় বেলাল। এসময় ইউসুফ দু’টি স্বর্ণের বারের প্যাকেট কনভেয়ার বেল্টের উপর রেখে দেয়।সুযোগ বুঝে বেলাল ও শেখ কামাল সেগুলো নিজেদের পকেটে নিয়ে নেয়। পরে তারা শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের হাতে ধরা পড়ে।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে এই প্রথম বিমানের কোন কর্মকর্তা চোরাচালানে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তাছাড়া তাদের বাইরে আর কারা জড়িত আছে তা অনুসন্ধান চলছে। যাদের নাম আসবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।