পানির উৎস ধ্বংস হচ্ছে: সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম

Ctg-washa-5শুভ্র দাশ, চট্টগ্রাম : বুধবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে মদুনাঘাট পানি শোধনাগার নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের সব জায়গায় পানির ব্যাপক সমস্যা। সুপেয় পানি কোথাও নেই । আর আমরা পানির সবগুলো উৎস নিজেরাই ধ্বংস করে দিচ্ছি । গ্রামের পুকুর ভরাট করে মুরগির ফার্ম দিচ্ছি, নদীতে মাছ পাওয়ার আশায় বিষ দিচ্ছি, পানির ঝর্ণা যথানিয়মে ব্যবহার করছিনা । নদীর এক ফোঁটা পানিও বিশুদ্ধ নয়। তবে প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর পানির উপর খুব গুরুত্ব দিচ্ছেন । শুধু তাই নয় পানির সমস্যা লাঘব করতে শুধুমাত্র চট্টগ্রামেই তিনটি পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হবে। ’

তিনি আরো বলেন, ‘পানির অপর নাম যে জীবন তা আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। আর যদি উপলব্ধি না করি তাহলে আমাদের সুপেয় পানির সমস্যায় ভুগতে হবে । আমরা পানি খাওয়ার জন্য ঠিকই এক গ্লাস পানি নিই কিন্তু পান করি অর্ধেক। আর বাকি অর্ধেক আমরা অপচয় করছি। এভাবেই কোটি কোটি লিটার পানি আমরা নিজেরাই অপচয় করছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘পানি সব রাজনীতি দলের প্রয়োজন। কি আওয়ামী লীগ, কি বিএনপি, কি জামায়াত সব দলের জন্যই কিন্তু পানি প্রয়োজন। তাই এই পানি নিয়ে আমাদের সবারই চিন্তা করতে হবে। এখন কি হবে সেটার চাইতে আগামী ২০ বছর পর কি হবে সেটাই এখন থেকে ভাবতে হবে।’

বর্তমান সময়ের ছাত্র রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাত্র ১৭ বছর বয়সে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলাম। আর ছাত্র থাকা অবস্থায় চট্টগ্রামে নিয়মিত আসা যাওয়া করতাম। তখন মহিউদ্দিন ভাইও ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। মূলত তখন থেকেই চট্টগ্রামের জন্য আমার আলাদা একটা মমতাবোধ রয়েছে। চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার প্রাণের টান রয়েছে। তাই বারবার চট্টগ্রামে ছুটে আসি। আর এখন প্রাইমেরী পাশ করে ১৮ বছর বয়সে। ছাত্র রাজনীতিতে ৪০ এর নিচে নেই।’

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রামে সুপেয় পানির প্রয়োজনীয়তা খুব বেশি। ৫০কোটি লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে চট্টগ্রাম ওয়াসা মাত্র ২১কোটি লিটার পানি সরবরাহ করতে পারছে। বাকি পানি বিভিন্ন উৎস থেকে সরবরাহ করছে। সেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই এটা নিয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে। শুধুমাত্র চট্টগ্রামে বর্তমানে ৪০ লক্ষ মানুষের কথা না ভেবে ১ কোটি মানুষের চাহিদা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। তবেই আমাদের এ সমস্যা লাঘব হবে।’

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চট্টগ্রামের নব নির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, আব্দুল মালেক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নব নির্বাচিত ভিসি ড.ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুচ ছালাম প্রমুখ।