আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় নির্মিত হবে অয়েল মিউজিয়াম

24_70086এ,এইচ,এম সুমন চট্টগ্রাম:নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে দেশের প্রথম অয়েল মিউজিয়াম বা তেল জাদুঘর। ১১ দশমিক ২২ কাটা জায়গার ওপর জাদুঘরটি নির্মাণ করা হবে।নির্মিতব্য এ ভবনটি হবে ২০তলা বিশিষ্ট। ভবনের পৃথক তিনটি বেইসমেন্ট-এ থাকবে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, গ্রাউন্ড ফ্লোরে থাকবে এটিএম বুথসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, প্রথম ফ্লোরে থাকবে এ মিউজিয়াম।
একই সঙ্গে থাকবে ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠানের অফিস। দ্বিতীয় ফ্লোরেও থাকবে ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠান। তৃতীয় ফ্লোরে রেস্টুরেন্ট, চতুর্থ ফ্লোরে থাকবে নামাজের স্থান ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের নিজস্ব কেন্টিন-কিচেন, পঞ্চম থেকে ১৯ তম ফ্লোর পর্যন্ত থাকবে মেঘনার নিজস্ব কার্যালয়। ছাদে থাকবে এমপিএল লাউঞ্জ।
জাদুঘরটি নির্মাণ করবে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড।

জাদুঘরের নকশা তৈরি করে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য ইতিমধ্যে
‌চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও জমা দেয়া হয়েছ। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটি।

মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান জানান, প্রায় এক লাখ ৩৮৮ বর্গফুটের এই মিউজিয়ামটি নির্মিত হলে তেল সেক্টরের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাক্ষর সম্বলিত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত এবং নানা শ্রেণির জ্বালালি তেল তাতে স্থান পাবে। একই সঙ্গে এই মিউজিয়াম জ্বালানী সেক্টরে গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করে দেবে।

এ বিষয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান বলেন, মেঘনার নিজস্ব অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত হবে দেশের প্রথম তেল যাদুঘর। এটি হবে চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টিনন্দন ভবন। বর্তমানে প্রকল্পটির দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে প্রায়। পাইলিংয়ের কাজ শুরু হবে অচিরেই। এটি কেবল চট্টগ্রাম নয়, দেশেরই একটি জাতীয় সম্পদ।

প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে যত প্রকার তেল (জ্বালানি) আছে তা অনেকেরই অজানা। তাছাড়া তেলের ইতিহাস-ঐতিহ্য, কোন দেশে তেলের কি অবস্থান তার অনেক কিছুই জানার সুযোগ থাকে না। তাই মিউজিয়ামে এসব অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে।

এছাড়া এখানে থাকবে উপমহাদেশে জ্বালানি তেলের আবিষ্কার ইতিহাস, দেশে কত প্রকারের তেল আছে, জ্বালানি তেলের ব্যবহার পরিক্রমা, দেশে বিভিন্ন তেল কোম্পানির আগমন ও তাদের কার্যক্রম, বাংলাদেশে তেল অনুসন্ধান কার্যক্রম, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) এবং পেট্রোবাংলার অধীন কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম, বাংলাদেশের তেলক্ষেত্র, তেলের মজুদ, বাংলাদেশের তেল সম্পদের অর্জন ও সম্ভাবনা, বিভিন্ন দেশের দুষ্প্রাপ্য তেলের নমুনাসহ অনেক কিছুরই সমাহার থাকবে।

মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের কর্মকর্তা মীর সাইফুল্লাহ আল খালেদ বলেন, তেল পদার্থটা সহজেই নিঃশেষ হয়ে যায় এমন একটি পণ্য। তাই এটির সঠিক ব্যবহার, ব্যবহৃত তেলের নমুনা সংগ্রহ করে রাখাসহ নানা তথ্যের দরকার হয়। একটি মিউজিয়ামের মাধ্যমে খুব সহজেই নমুনা সংরক্ষণ করে রাখা যায়।