জঙ্গি তৎপরতা বন্ধ করতে পুলিশ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: শহীদুর

জঙ্গি তৎপরতা বন্ধ করতে পুলিশ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: শহীদুর
জঙ্গি তৎপরতা বন্ধ করতে পুলিশ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: শহীদুর

চট্টগ্রাম অফিস :
নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র সামরিক শাখার প্রধানসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর আয়েজিত এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সিএমপি কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্যও উপস্থিত ছিলেন। উক্ত সম্মেলনে সিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন, অর্থ ও ট্রাফিক) একেএম শহীদুর রহমান জানিয়েছেন চট্টগ্রামে যে কোন ধরনের জঙ্গি তৎপরতা বন্ধ করতে পুলিশ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ । মঙ্গলবার দুপুরে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

শহীদুর বলেন, ‘জঙ্গিরা যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেজন্য আমরা সবসময় সতর্ক আছি। আমরা এ বিষয়ে চট্টগ্রামবাসীর সহযোগিতা চাই। পুলিশ জঙ্গি তৎপরতা বন্ধে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জঙ্গিদের মাথা তুলতে দেয়া হবেনা। ’

তিনি বলেন, ঢাকায় এবং রংপুরে দুই বিদেশিকে হত্যার পর আমরা চট্টগ্রামে সতর্ক অবস্থায় আছি। নিয়মিত চেকপোস্ট, গ্রেপ্তার অভিযানসহ আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। এসব পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে।

‘ঢাকা এবং রংপুরের মত কোন ঘটনা যাতে চট্টগ্রামে না হয় সেজন্য আমাদের ব্যাপক কর্মতৎপরতা আছে। এই কর্মতৎপরতার সুফল আমরা পেয়েছি। ‘ বলেন শহীদুর।

শহীদুর জানান, নগরীর সদরঘাট থানার মাঝিরঘাটে ছিনতাই করতে গিয়ে গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়ে দু’জনের মৃত্যু এবং এর আগে মাজারে ঢুকে দু’জনকে হত্যার ঘটনায় আমরা জঙ্ড়িদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সন্দেহ করছিলাম। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাবার পর জোরালো কার্যক্রম শুরু হয়।

‘মাজারে হত্যাকান্ডের এক মাসের মধ্যে এবং ছিনতাইয়ের ঘটনার ১৫ দিনের মধ্যে আমরা এর রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। ঘটনার সঙ্গে কারা কারা জড়িত তাও আমরা অনুসন্ধান করে বের করেছি। এর মধ্যে পাঁচ জঙ্গিকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।

২৩ সেপ্টেম্বর সদরঘাট থানার মাঝিরঘাটে ছিনতাই করতে গিয়ে হ্যান্ডগ্রেনেড বিস্ফোরণে দু’জন ‘ছিনতাইকারী’ ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এবং পরে ঘটনার শিকার ব্যবসায়ীও মারা যায়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার একেএম শহীদুর রহমান জানান, ছিনতাইয়ে জেএমবি’র আটজনের একটি টিম অংশ নেয়। এরা হল, জাবেদ, সুজন, ফারদিন, পিয়াস, সজিব, হাবিব, কালাইয়া ওরফে মটু এবং বুলবুল ওরফে ফুয়াদ। এদের মধ্যে চারজন মোটর সাইকেলে রেসকিউ টিম হিসেবে, বাকি চারজন ছিনতাইয়ে অংশ নেয়। এদের মধ্যে রবিউল ও রফিক ঘটনাস্থলেই গ্রেনেড বিস্ফোরণে মারা গেছে।

৪ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ বোস্তামি থানার বাংলাবাজারে মাজারে ঢুকে ল্যাংটা ফকির ও আব্দুল কাদের নামে দু’জনকে নৃশংসভাবে জবাই করে খুন কর‍া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, মাজারের পীরসহ দু’জনকে খুনের মিশনে জঙ্গি সুজন ওরফে বাবু একাই অংশ নিয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানতে পেরেছেন, ল্যাংটা ফকির সবসময় উলঙ্গ অবস্থায় থাকতেন। বিষয়টি জেএমবি সদস্যরা শরিয়তবিরোধী হিসেবে ধরে নিয়েছিল। এছাড়া তাকে প্রচুর লোকজন শ্রদ্ধা করত। তারা ভেবেছিল, ল্যাংটা ফকিরকে হত্যা করতে পারলে জান্নাতের ওয়াজিব পাবে। এজেন্য ল্যাংটা ফকিরকে হত্যা করেছিল জেএমবি সদস্য সুজন।

ল্যাংটা ফকির ও তার খাদেম আব্দুল কাদেরকে খুনের পর জেএমবি সদস্য সুজন গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। ওই বিস্ফোরিত গ্রেনেডের সঙ্গে সামরিক প্রধান জাবেদের আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হ্যান্ডগ্রেনেডের মিল আছে বলে জানান দেবদাস।

সংবাদ সম্মেলনে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার কুসুম দেওয়ান এবং অতিরিক্ত উপ কমিশনার বাবুল আক্তার উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর-দক্ষিণ) বাবুল আক্তারের নেতৃত্বে পুলিশ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেএমবি’র সামরিক প্রধান মো. জাবেদ (২৪) সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। বাকি চারজন হল, বুলবুল আহমেদ(২৬) ওরফে ফুয়াদ, সুজন ওরফে বাবু(২৫), মাহবুব(৩৫) এবং সোহেল ওরফে কাজল (৩৫)।

জেএমবির গোপন আস্তানা থেকে ১০টি অত্যাধুনিক ছোরা, নয়টি হ্যান্ডগ্রেনেড (জঙ্গিদের তৈরি), একটি পিস্তল এবং ১১৫ রাউন্ড গুলিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

এদিকে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার ভোরে আরেকটি অভিযানে গিয়ে গ্রেনেড বিস্ফোরণে জেএমবি’র সামরিক শাখার প্রধান মো.জাবেদ নিহত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জাবেদকে জেএমবি’র চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিস্ফোরক বিভাগের প্রধান এবং ফুয়াদ ওরফে বুলবুলকে সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন সিএমপি কর্মকর্তারা। জেএমবি সদস্যদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরক সরঞ্জামের সঙ্গে বেশকিছু জিহাদি বই এবং নথিপত্র পাওয়া গেছে।