নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে পুরো চট্টগ্রাম

  নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে পুরো চট্টগ্রাম
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে পুরো চট্টগ্রাম

এ,এইচ,এম সুমন চৌধুরী চট্টগ্রাম:
শারদীয় দুর্গা উৎসব ও প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠেয় শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবল কাপ টুর্নামেন্টেকে ঘিরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে । আনসার-ভিডিপি, এপিবিএন, শিল্প পুলিশ, রিজার্ভ পুলিশ, থানা ও ফাঁড়ির পুলিশের পাশাপাশি মোতায়ন করা হয়েছে র‌্যাব ও বিজিবি। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়নের মাধ্যমে পুরো নগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। পোশাকধারী র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি সাধা পোশাকের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে ব্যাপকহারে।
ইতোমধ্যে র‌্যাব-বিজিবির টহল শুরু হয়েছে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে । চট্টগ্রামে এবার ১৯৪৩ টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সবোর্চ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে পূজা উদাযাপন পরিষদের নিজস্ব স্বেচ্ছা সেবকদের পাশাপাশি তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে র‌্যাব-৭ এর সহকারি পরিচালক এএসপি সাহেদা সুলতানা বলেন, ‘দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আমাদের ১২টি টিম সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে। এছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্সও প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও র‌্যাব সদস্য মণ্ডপে ও মণ্ডপের বাইরে মোতায়ন থাকবে। এছাড়া খেলোয়াড়দের নিরাপত্তায় পৃথক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।’

2015_10_18_18_38_18_Dnncg33sJrqcaQZcVr7PaE7M96oBwi_original

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, এ বছর চট্টগ্রামে মোট পূজা মণ্ডপের সংখ্যা ১৯৪৩ টি। মহানগরে ৩২৫ টি, সকল উপজেলায় একত্রে ১৬১৮টি। এর মধ্যে সার্বজনীন মণ্ডপ রয়েছে ১৭২১টি এবং পারিবারিক মণ্ডপ রয়েছে ২২২ টি। ১৯ অক্টোবর থেকে মহা ষষ্ঠীপূজার মধ্যে দিয়ে দুর্গাপূজা শুরু হবে এবং ২২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে বির্সজনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটবে। এছাড়া মহানগরীর পূজা মণ্ডপগুলোয় যে কোনো ধরণের বিশৃংখলা এড়াতে একটি ফোন কল সার্ভিস চালু করেছে সিএমপি।

এদিকে আগামী ২০ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠেয় শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবল টুর্নামেন্ট উপলক্ষে ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছে কলকাতার ক্লাব দুটি। রাতের মধ্যে আসার কথা রয়েছে আফগানিস্তান, শ্রীলংকা ও পাকিন্তানের ক্লাবগুলোরও। এছাড়া বাংলাদেশের ঢাকা আবাহনী ও ঢাকা মোহামেডান ফুটবল ক্লাবও কালকের মধ্যে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দেশে-বিদেশি আট ক্লাবের খেলোয়াড়রা হোটেল পেনিনসুলায় অবস্থান করবেন।

আয়োজক সূত্র জানায়, আগামী ২০ অক্টোবর থেকে চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে দেশ-বিদেশের ৮ টি ক্লাবের অংশগ্রহণে শুরু হতে যাচ্ছে ‘শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০১৫।’ ২০ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মোট দশদিন এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন বিকেল ৪টা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হবে দুটি করে ম্যাচ।

গ্রুপ ‘এ’ তে রয়েছে-ঢাকা মোহামেডান, কলকাতা মোহামেডান, শ্রীলঙ্কার সলিড এফসি ও এ গ্রুপের অন্য দলটি চুড়ান্ত হয়নি। আফগানিস্তানের শাহীন আসমায়ী ফুটবল ক্লাব ও আফগান প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন ডি স্পিন গর বাজান ফুটবল ক্লাবের মধ্যে থেকে একটি ক্লাব অংশ নিবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গ্রুপ ‘বি’ তে রয়েছে-ঢাকা আবাহনী, কলকাতা ইস্ট বেঙ্গল, পাকিস্তানের করাচি ইলেকট্রিক ক্লাব ও স্বাগতিক চট্টগ্রাম আবাহনী।

ক্লাবগুলো দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠ ও বন্দর স্টেয়িামের অনুশীলন করবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সেজন্য খেলোয়াড়দের যাতায়তস্থল, টিম হোটেল ও অনুশীলনস্থলে কঠোর নিরাপত্তবলয় তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘বিদেশি হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নগরীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি ছিল। এরমধ্যে দুর্গাপূজা ও ফুটবল টুর্নামেন্টকে ঘিরে এ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো কঠোর থেকে কঠোর করা হয়েছে। নগরীর প্রতিটি অলিতে-গলিতে, মণ্ডপে ও মণ্ডপের বাইরে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুরো নগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। একাজে আনসার-ভিডিপি, এপিবিএন, শিল্প পুলিশ, রিজার্ভ পুলিশ, থানা ও ফাঁড়ির পুলিশের পাশাপাশি মোতায়ন করা হয়েছে র‌্যাব ও বিজিবি। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে এই প্রথমবারের মত সর্বোচ্চ লেবেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশেষ করে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তায় এপিবিএন ও র‌্যাবের মাধ্যমে নিরাপত্তা দেয়া হবে। এজন্য তাদের অনুশীলনস্থল, টিম হোটেল ও যাতায়তস্থলে সবোর্চ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পূজা ও টুর্নামেন্ট উপলক্ষে সাদা পোশাকের পুলিশের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে তথ্য সংগ্রহে কাজ করছে।’

শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সহ সভাপতি সিরাজুদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা প্রদানের ব্যাপারে আমরা দফায় দফায় পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাথে বৈঠক করেছি। তাদের যাতায়তস্থল, অনুশীলনস্থল ও টিম হোটেলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সব ক্লাবের খেলোয়াড়ই হোটেল পেনিনসুলায় অবস্থান করবেন। আর বন্দর স্টেডিয়াম ও দামপাড়া পুলিশ মাঠে অনুশীলন করবেন। আর ২০ অক্টোবর থেকে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হবেন।’

2015_10_18_18_39_15_n7xp2Y3LNvUunXmj18kJKMPJ8lPij1_800xauto

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্ণেল এ আর এম নাসির উদ্দিন একরাম বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার বিকেল থেকে নগরীতে তিন প্লাটুন বিজিবি টহল শুরু করেছে। এছাড়া জেলার ১৪ উপজেলায়ও আরো সাত প্লাটুন বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে। এছাড়া ফুটবল টুর্নামেন্ট উপলক্ষে খেলোয়াড়দের যাতায়ত, অনুশীলনস্থল ও হোটেলের সামনে বিজিবির অবস্থান থাকবে। যে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবেও বেশ কয়েক প্লাটুন বিজিবিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) নাঈমুল হাসান জানান, জেলার বিভিন্ন পূজা ম-পের নিরাপত্তায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ।