ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে পাঁচ দিন ব্যাপী দুর্গোৎসব শুরু

 ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে পাঁচ দিন ব্যাপী দুর্গোৎসব শুরু
ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে পাঁচ দিন ব্যাপী দুর্গোৎসব শুরু

মর্নিংসান  নিউজ প্রতিবেদন:
দুর্গা শব্দের অর্থ হলো ব্যূহ বা আবদ্ধ স্থান। যা কিছু দুঃখ কষ্ট মানুষকে আবদ্ধ করে, যেমন বাধাবিঘ্ন, ভয় দুঃখ, শোক, জ্বালা, যন্ত্রণা এসব থেকে তিনি ভক্তকে রক্ষা করেন। বাংলার মহানগরীর দুর্গোৎসবগুলোর ইতিহাস ঘিরে আছে বাঙালির কৃষ্টি। দেবী দুর্গা ঢাকায় ঠিক কবে এসেছিলেন, তা বলা শক্ত। ইতিহাস বলে, বারোশো শতাব্দীতে বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদী পাড়ের জঙ্গলে দেবী দুর্গার একটি মূর্তি পান এবং ঢাকেশ্বরী মন্দির স্থাপন করেন। এখন বাংলাদেশের ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায় প্রায় ৩০ হাজারের বেশি দুর্গাপূজা হয়। সরকারি তথ্য অন্তত তাই।

আজ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে পাঁচ দিন ব্যাপী উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। আজ প্রতিটি পূজামণ্ডপে আজ শ্রীশ্রী শারদীয়া দুর্গাদেবীর ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভে সায়ংকালে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস এবং ষষ্ঠী বিহিত পূজা প্রশস্তা। এবার দুর্গা মর্ত্যে আসবেন ঘোড়ায় চড়ে আর পিতৃগৃহ থেকে তিনি কৈলাসে ফিরে যাবেন দোলায় (দোলনা) চড়ে। মণ্ডপের ভেতর প্রতিমা আসার পর থেকেই শুরু উৎসব। পাঁজি আর পুরোহিতের তোয়াক্কা করবেন নিষ্ঠাবান পূজারী বা মুরব্বিরা। উৎসবমুখর আম-বাঙালি। বছর ঘুরে উমা আসবেন বাপের বাড়ি। থাকবেন চার দিন, এই টুকুতে কি আর মন ভরে।

২৩ অক্টোবর শুক্রবার সকালে (৯.৫৭ মিনিটের মধ্যে) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ উৎসবের। এর আগে রোববার সায়ংকালে দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভিন্ন মতে এবার নবমী ও দশমী একই দিনে পড়ায় অনেক স্থানে বৃহস্পতিবার দেবীর বিসর্জন দেওয়া হবে।

উমা থেকে পার্বতী। তারপর পার্বতী থেকে দুর্গা। এই নামেই তিনি বেশি পরিচিত। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে আছে তিনি গিরিরাজ হিমালয়ের কন্যা ও পর্বতের অধিষ্ঠাত্রী দেবী, তাই তিনি পার্বতী । পরের অধ্যায়ে তিনি হয়ে ওঠেন দানব দলনী দশভুজা। আর তখনিই তার নাম হয় দুর্গা। দুর্গাপূজার সঠিক সময় হলো বসন্তকাল কিন্তু বিপাকে পড়ে রামচন্দ্র, রাজা সুরথ এবং বৈশ্য সমাধি বসন্তকাল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে শরতেই দেবীকে অসময়ে জাগ্রত করে পূজা করেন। সেই থেকে অকাল বোধন হওয়া সত্ত্বেও শরতকালে দুর্গাপূজা প্রচলিত হয়ে যায় ।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশের হিন্দুধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দুর্গোৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়সহ ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দেশের সব নাগরিককে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এদিকে দুর্গাপূজায় সেজেছে ঢাকেশ্বরী মন্দির, রমনা কালীমন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন, বনানী পূজামণ্ডপ, কলাবাগান পূজামণ্ডপ, শাঁখারীবাজার, মিরপুর কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপ, বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান, সিদ্ধেশ্বরী কালিমাতা, ভোলানাথ মন্দির আশ্রম, জগন্নাথ হল, ঋষিপাড়া গৌতম মন্দির, গুলশান বনানী সর্বজনীন পূজা পরিষদ মণ্ডপ, বাসাবো বালুর মাঠ, লক্ষ্মী-নারায়ণ মন্দির পূজামণ্ডপ থেকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুষ্টিয়ায় বড়বাজার মন্দির, মহাশ্মশান মন্দির, খোকসায় বিলজানি ‘রায়বাড়ি’ সর্বজনীন দুর্গামন্দির। ভিড়ভাট্টা, বাহারি আমোদ, অষ্টখন্ডে ছিটকে পড়া আহ্লাদ।

ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের সহসম্পাদক এবং পূজার তন্দ্রধারক স্থিরাত্মানন্দ মহারাজ (নিরঞ্জন মহারাজ) বলেন, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার ঘোড়ায় চড়ে কৈলাস থেকে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসবেন। এতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, রোগ শোক হানাহানি মারামারি বাড়বে। অন্যদিকে কৈলাসে (স্বর্গে) বিদায় নেবেন দোলায় চড়ে। যার ফলে জগতে মড়ক ব্যাধি এবং প্রাণহানির মতো ঘটনা বাড়বে।

এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গনে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে।