নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী নির্যাতন হ্রাসে কর্মশালা

নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী নির্যাতন হ্রাসে কর্মশালা
নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী নির্যাতন হ্রাসে কর্মশালা
নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী নির্যাতন হ্রাসে কর্মশালা

মোহাম্মদ আলী, বান্দরবান: বান্দরবানে আনন্দ ও বান্দরবান ইকো ডেভলপমেন্ট এর যৌথ উদ্যোগে লিঙ্গীয় সমতা-নারীর ক্ষমতায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অবস্থা ও সমস্যা বিশ্লেষণ এবং নারীদের প্রতি নির্যাতন হ্রাসকরণে আশু করণীয় প্রেক্ষিতে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার সকাল ১০টায় বান্দরবান সদর উপজেলা অফিস মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুল হক চৌধুরী। বান্দরবান ইকো-ডেভলপমেন্ট এর সহকারী পরিচালক মংহৈচিং মারমা এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)আবু জাফর, বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ, বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা রুমি, ঢাকা আনন্দ এর পোগ্রাম কো-অডিনটর ফ্রান্সেস হালদার।

প্রধান অতিথি বলেন স্থানীয় পর্যায়ে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত পুরুষ জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি নারী জনপ্রতিনিধিগণও উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে হাজার বছরের সামাজিক বৈষম্য, দারিদ্র, নিরক্ষরতা এবং কুসংস্কার নারীদের পশ্চাৎ করে রেখেছে। ইউনিয়ন এবং উপজেলা পরিষদের নারী প্রতিনিধিগণও এর বাইরে নয়। আপনারা জানেন,নারী উন্নয়ন কমিটির উদ্দেশ্য হল ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদে সামগ্রিক কার্যক্রমে নারী সদস্যদের ভুমিকা জোরদার করা। সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জেন্ডার সংবেদনশীল করা। অন্যান্য নাগরিক সংগঠনের সাথে নেটওর্য়াকিং ও যোগাযোগ স্থাপন করা।

অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে এই পাঁচ মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামে ২৩ জন পাহাড়ী নারী ও শিশু ধর্ষণ, অপহরণ ও হত্যাসহ সহিংসতার শিকার হয়েছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সহিংসতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হলেও অধিকাংশ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় বা যাদেরকে গ্রেফতার করা হয় তারাও আইনের ফাঁক-ফোকর গলে ও অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে জেল থেকে বেরিয়ে আসে। আবার অন্যদিকে, পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসচেতনতা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে, ভুক্তভোগীরা সহজে প্রচলিত আইনের আশ্রয়ে যাওয়ার আগ্রহী হয় না। ফলশ্রুতিতে, কিছু কিছু সহিংসতা ও ধর্ষণের ঘটনাসমূহকে আইনী প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পূর্বেই আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টাও ইতোমধ্যে পরিলক্ষিত। যার ফলে অন্যান্য দুস্কৃতিকারী-ধর্ষক-নির্যাতনকারীদের মধ্যে সাহস ও নির্যাতনের অভিপ্রায়ের পৌনঃপুনিকতা ক্রমবৃদ্ধি ঘটছে।

কর্মশালায় প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন স্বাগত ধর। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, বিটিভি প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম মনু, প্রথম আলো প্রতিনিধি বুদ্ধজ্যোতি চাকমা, বান্দরবান জেলা মানবাধিকার সভাপতি ডনাই প্রু নেলী, বান্দরবান ইকো-ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার থই হ্লা খই (খোয়াই),আনন্দ প্রজেক্ট ম্যানেজার রাখি মুরং, বান্দরবান ইকো-ডেভেলপমেন্ট এর প্রোগ্রাম অর্গানাইজার এন্ড্রো ডায়েস, বান্দরবান পৌরসভার সাবেক মহিলা কাউন্সিলর ও বান্দরবান জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জোহুরা বেগম চৌধুরী, এ্যাডভোকেট সারাহ হোসেন, এ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা, মহিলা উদ্যোক্তা ইম্মে কুলসুমসহ অন্যান্য নারী উদ্যোক্তরা উপস্থিত ছিলেন।