দুই কলেজ শিবিরমুক্ত করতে ছাত্রলীগের ৮ দফা

 দুই কলেজ শিবিরমুক্ত করতে ছাত্রলীগের ৮ দফা
দুই কলেজ শিবিরমুক্ত করতে ছাত্রলীগের ৮ দফা

চট্টগ্রাম অফিস :
চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ ও হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজকে শিবিরমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৮ দফা দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ। দাবি মেনে না নিলে কলেজ দু’টি খুলতে দেবেনা বলেও জানিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতারা।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নগর ছাত্রলীগ এসব কথা জানিয়েছে। দাবি মেনে নেয়ার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। একই সাথে ওই সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৮ দফা দাবিও পেশ করেন তারা। দাবি মানা না হলে কলেজ বন্ধ রাখতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহম্মেদ ইমু। এ সময় পাশে ছিলেন নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নির্দেশনায় সারা দেশে মানবতাবিরোধী জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ ও লড়াই চলমান রয়েছে। এমনকি তাদের নির্মূলে সরকারের পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স বলবৎ থাকার পরও চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসীন কলেজে তিন যুগ ধরে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত–শিবির জঙ্গিবাদের দুর্ভেদ্য ঘাঁটিতে পরিণত করেছে। চট্টগ্রাম মহসীন কলেজের একটি ছাত্রী নিবাস পাঁচ বছর ধরে ছাত্রীদের পরিবর্তে শিবির ক্যাডাররা দখল করে রেখেছে অথচ প্রশাসনের কোনো খবর নেই।’

এমনকি এ দু’কলেজে শিবির শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে বন্ধ করে একক কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে তারা অস্ত্রের মজুদ করা হয়েছে। যার প্রমাণ বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসের আশপাশে বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে।

জাতীয় পতাকা, সংগীত ও শহীদ মিনারকে ঘৃণাত্মকভাবে ধিক্কার করা হয় বলে দাবি করে লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, এ দু’টি সরকারি কলেজে জাতীয় সংগীত ও শহীদ মিনারকে ঘৃণা করা হয়। শুধু তাই নয় মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ম্যুরালও স্থাপন করা হয়েছে । এ ছাড়া ক্যাম্পাসের ভেতরে আবাসিক বাড়ি তৈরি করে সেখানে বহিরাগত জঙ্গিদের থাকতে দেয়া হয় বলেও দাবি করেন তারা।

ছাত্রলীগের আট দফা দাবি হলো : ১. কলেজ ক্যাম্পাসে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন ২. মূল ফটক ছাড়া বাকি ১৬টি প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়া ৩ .ক্যাম্পাসের ভেতরে সব ধরনের আবাসিক স্থাপনা বন্ধ করে দেয়া ৪. শিবির ক্যাডারদের পৃষ্ঠপোষক হোস্টেল সুপার-মসজিদের ইমাম ও খতিবকে অপসারণ করা ৫. অস্থায়ী ও খণ্ডকালীন কর্মচারীদের অপসারণ ও দোকান বন্ধ করে দেয়া ৬. তিন দশক ধরে ছাত্র সংসদের নামে আদায় করা অর্থের হিসাব সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন ৭. ছাত্রাবাস ও ছাত্রী নিবাসের নামে মিনি ক্যান্টনমেন্টগুলো বন্ধ করে দেয়া এবং ৮. নাশকতা মামলার আসামি ছাত্রদের গ্রেপ্তার ও ছাত্রত্ব বাতিল।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাজমুল হোসেন রুমি, একরামুল হক রাসেল ও আবু মোহাম্মদ আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জয়, দীপংকর শুভ ও অভীক দাশ উত্তম, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিম, ওবায়দুল হক ও আকলিমা আক্তার।