দোহাজারী-ঘুমধুম প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ এখনো শুরু হয়নি

দোহাজারী-ঘুমধুম প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ এখনো শুরু হয়নি
দোহাজারী-ঘুমধুম প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ এখনো শুরু হয়নি

চট্টগ্রাম অফিস:

বর্তমান মহাজোট সরকারের আমলে কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কক্সবাজারের ঝিলংজা বিডিআর ক্যাম্প এলাকায় গত বছরের ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক দোহাজারী-ঘুমধুম রেললাইন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল । কিন্তু দোহাজারী থেকে কক্সবাজার হয়ে ঘুমধুম পর্যন্ত ১২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে রেলওয়ের অসম্পূর্ণ প্রস্তাবের কারণে ভূমি অধিগ্রহণের কাজই শুরু করতে পারেনি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। ফলে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত এই প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের আমলে শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।

 রেলের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দোহাজারী-ঘুমধুম রেললাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চট্টগ্রাম জেলার ২৭৯ দশমিক ২৭৯ একর এবং কক্সবাজার জেলার ৯৯৩ দশমিক ৪২৬ একর জমি অধিগ্রহণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে উখিয়া উপজেলার ১২৬ দশমিক ৫৪৭ একর, কক্সবাজার সদর উপজেলার ১১৮ দশমিক ৫২০৬ একর এবং চকরিয়া উপজেলায় কমবেশি ৪২২ দশমিক ৯৮ একর জমি অধিগ্রহণের লক্ষে যথাক্রমে এলএ মামলা নং ৬/১০-১১, এলএ মামলা নং ৭/১০-১১ এবং এলএ মামলা নং ৮/১০-১১ রুজু করে তা অনুমোদনের জন্য একটি প্রস্তাব গতবছরের ১২ জুলাই ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয় উক্ত প্রস্তাব অনুমোদন না দিয়ে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর তা ফেরত পাঠিয়ে দেয়। যথাযথ কাগজপত্র না দিয়ে উল্লিখিত প্রস্তাবসমূহ পেশ করার কারণে মন্ত্রণালয় তা ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তা সংশোধন করে গত মার্চ মাসে শুধুমাত্র উখিয়া ও কক্সবাজার সদরের ভূমি অধিগ্রহণের অনুমোদন চেয়ে আবারও প্রস্তাব পাঠানো হয় ভূমি মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু এই প্রস্তাবের অনুমোদন এখনও মেলেনি। অধিকন্তু রামু উপজেলার জরীপ কাজ এখনও শেষ করা যায়নি। চকরিয়া উপজেলার ভূমি অধিগ্রহণ নিয়েও দেখা দিয়েছে জটিলতা। এছাড়া পার্বত্য বান্দরবান জেলার কিছু জমিও অধিগ্রহণ করতে হবে। এই জমির জরীপও এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সংশিষ্ট সূত্র জানায়, মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিস্টান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আপত্তির কারণে চকরিয়া উপজেলার ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবিত রেলপথে মালুমঘাট হাসপাতালের জমি পড়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা ছেড়ে দিতে অপারগতা জানানোর কারণে এই জটিলতা দেখা দেয়। ফলে রেলপথের গতিপথ পরিবর্তন করে জমি অধিগ্রহণের নতুন প্রস্তাব পাঠানোর জন্য পুনরায় জরীপ কাজ চালাতে হচ্ছে। বর্তমানে একটি যৌথ তদন্ত দল এই জরীপ কাজ চালাচ্ছে। ফলে চকরিয়া উপজেলার ভূমি অধিগ্রহণ প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। এছাড়া রামু উপজেলার ভূমি জরীপও শেষ করতে হবে। এসব জরীপ কাজ শেষ করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই শুরু হবে জমি অধিগ্রহণ। আর জমি অধিগ্রহণ কাজ শেষ হলে সরকারের বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে শুরু হবে রেলপথের নির্মাণ কাজ। তবে এসব জটিলতা নিরসন করে এই রেলপথের নির্মাণ কাজ কবে শুরু হবে এবং শুরু হলেও বর্তমান সরকারের কার্যকালের মধ্যে শেষ করা যাবে কিনা- এনিয়ে সংশ্লিষ্টদের মাঝে সংশয় দেখা দিয়েছে । এ অবস্থায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়তে পারে বলে সাংবাদিকদের জানান পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের প্রকল্প প্রধান প্রকৌশলী খায়রুল আলম।

 উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দোহাজারী থেকে রামু, কক্সবাজার ও ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন বা মিটারগেজ রেলপথ গড়ার একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। ১২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ বাস্তবায়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৮৫২ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০১০ সালের ৬ জুলাই এক নেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) অনুমোদন লাভ করে। ‘দোহাজারী-ঘুমধুম রেললাইন’ নামের এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় গত বছরের ৩ এপ্রিল। কক্সবাজার শহরতলীর ঝিলংজায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে তাঁর সরকারের মেয়াদের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এছাড়া যোগাযোগ মন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারাও একই কথা বলেন। কিন্তু এত দীর্ঘদিনেও জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু না হওয়ায় প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের আমলে বাস্তবায়ন হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।