সিঙ্গাপুরে ৮ ও ঢাকায় ৫ বাংলাদেশি জঙ্গি গ্রেপ্তার

 সিঙ্গাপুরে ৮ ও ঢাকায় ৫ বাংলাদেশি জঙ্গি গ্রেপ্তার
সিঙ্গাপুরে ৮ ও ঢাকায় ৫ বাংলাদেশি জঙ্গি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

দেশে ফিরে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে আট বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে সিঙ্গাপুরের নিরাপত্তা সংস্থা ইনটার্নাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (আইএসএ)। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই সিঙ্গাপুরে নির্মাণ ও জাহাজ শিল্পের শ্রমিক। তাদের কাছ থেকে বোমা তৈরির নিয়ম-কানুন সম্বলিত ও জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া তাদের কাছে বাংলাদেশ সরকার ও সেনা কর্মকর্তাদের নামের তালিকা পাওয়া গেছে। এদের ওপর হামলার পরিকল্পনা ছিলো এই গ্রুপটির।

 মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একই দিন ঢাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। ঢাকায় আটকরা হলেন- মিজানুর রহমান ওরফে গালিব হাসান (৩৮), মিয়া পাইলট (২৯), আলমগীর হোসেন (৩১), তানজিমুল ইসলাম (২৪) ও মাসুদ রানা ওরফে সন্টু খান (৩১)। এদের গত ২৯ এপ্রিল সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

 গ্রেপ্তারকৃতদের বয়স ২৬ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের গণমাধ্যম স্ট্রেইট টাইমস। নিজেদের দলের নাম ইসলামিক স্টেট ইন বাংলাদেশ (আইএসবি) বলে জানায় গ্রেপ্তারকৃতরা। তারা সিরিয়া এবং ইরাকে গিয়ে আইএসে যোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

 গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে- মিজানুর রহমান (৩১), লিয়াকত আলী মামুন (২৯), ইব্রাহিম সোহাগ (২৭), রুবেল মিয়া (২৬), দৌলত জামান (৩৪), শরীফুল ইসলাম (২৭), হাজি নুরুল ইসলাম সওদাগর ওরফে মো. কায়সার জাবেদ (৩০) এবং ইসমাইল হাওলাদার ওরফে সোহেল হাওলাদার (২৯)। এদের মধ্যে কেবল মিজানুর রহমান সিঙ্গাপুরের দীর্ঘ মেয়াদে থাকার অনুমতি পাওয়া।

 স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত মার্চে মিজানুর রহমান অন্যদের নিয়ে ইসলামিক স্টেট ইন বাংলাদেশ নামে একটি গ্রুপ খোলেন। এদের সবার সিরিয়ায় চরমপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেটে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে সিরিয়ায় যাওয়া সম্ভব নয় বুঝতে পেরে তারা বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করে। সেখানে সরকার উচ্ছেদে তাদের কর্মকাণ্ড শুরুর ইচ্ছা ছিলো। মূলত বাংলাদেশে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও একে আইএসের স্বঘোষিত খেলাফতের আওয়তায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা ছিলো তাদের।

 মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, সদস্য সংখ্যা বাড়াতে গ্রুপটির সদস্যরা সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের টার্গেট করেছিল। বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলা চালাতে প্রয়োজনী অস্ত্রশস্ত্র কেনার জন্য তারা অর্থও সংগ্রহ করেছিল। অন্যান্য জিনিসপত্রের সঙ্গে এ অর্থও জব্দ করা হয়েছে।

 আইএসআইএসকে সমর্থণ করায় গ্রুপটিকে সিঙ্গাপুরের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।