জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর হাতে দমন করা হবে- শেখ হাসিনা

 

জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর হাতে দমন করা হবে - শেখ হাসিনা
জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর হাতে দমন করা হবে – শেখ হাসিনা

নিউজ ডেস্ক : 

জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর হাতে দমন করা হবে এমনটই বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 মঙ্গলবার সকালে তেজগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা মেধাবী তরুণদের উগ্র জঙ্গিবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাদের মূলোৎপাটন করা হবে। মানুষের উন্নয়নে যে কোনও ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। দেশের মানুষের কল্যাণ করাই তার লক্ষ্য। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি চিন্তিত নই।

 প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার ওপর বিভিন্ন সময়ে হামলা হয়েছে। মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের ইচ্ছায় রক্ষা পেয়েছি। একটা বিষয় নিয়ে বেশি চিন্তায় থাকি, যারা আমার নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে, আমার কারণে তাদের যেনো কোনও ক্ষতি হয়ে না যায়।

 তিনি বলেন, জনগণই হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ছেলে মেয়েদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। আধুনিক লেখাপড়া শিখে ধর্মান্ধতায় কি করে ঝুঁকে যায় লোকজন! তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয় জঙ্গি চিন্তা, তার মূলটা বের করতে হবে। কারা এর পেছনে কাজ করছে সেটা বের করতে হবে।

 প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু জঙ্গিবাদে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে আমাদেরও তা প্রতিহত করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হবে। প্রতিটি বাহিনীকে প্রযুক্তিতে উন্নত করতে হবে।

 শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েই রাজনীতি করি। আমার লক্ষ্য, দেশের মানুষের কল্যাণ করা। প্রতিটি মানুষ যেন মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারে। আর সেই অনুযায়ী কাজ করছি। এবার দেশের সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। যাতে সন্তুষ্ট থেকে সবাই নিজের দায়িত্ব পালন করতে পারে।’

 তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যে বই দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। যদিও আমাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু সৎসাহস থাকলে অনেক কিছু করা যায়। আমরাও এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের চাওয়া, ৯০ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নে দেশের উন্নয়নের কাজ হোক। একটা সময় ছিল, যখন অন্যের কাছে হাত পাততে হতো। কিন্তু বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল।’

তিনি বলেন, ‘গুলশানে হামলা, শোলাকিয়ায় হামলার পেছনে যারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি, দেশের উন্নতি চায় না, তাদের একটা চক্রান্ত রয়েছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক চক্রান্তও রয়েছে।’তিনি ফ্রান্স, আমেরিকা ও ভারতে সন্ত্রাসী হামলার উদাহরণ তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের শক্তি বড় শক্তি। ধর্মের নামে ধর্মান্ধতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। মানুষ খুন করে কীভাবে বেহেশতে যাবে। কী করে একজন আধুনিক শিক্ষিত মানুষ ধর্মান্ধ হয়? আমি আসেম সম্মেলনেও এই প্রশ্ন রেখে এসেছি যে কারা এসব কাজে অর্থ দেয়, অস্ত্র দেয়, প্রশিক্ষণ দেয়। তাদের মূলে কারা আছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে।’

এসএসএফের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত যতজন বিদেশি অতিথি দেশে এসেছেন তারা প্রত্যেকেই এসএসএফের প্রশংসা করেছেন। এসএসএফের সদস্যদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। তাদের আরো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।’

অভিভাবকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্তানদের সময় দিতে হবে। তাদের দিকে নজর দিতে হবে। তারা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এসব খেয়াল রাখতে হবে। তাদের শিক্ষাটাও যেন সঠিক হয়। আসামি ধরছি, বিচার করছি- এটা করলে হবে না। সামাজিকভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমি ভালোবাসি, এদেশের মানুষকে ভালোবাসি। এদেশের স্বাধীনতা অনেক ত্যাগের বিনিময়ে এসেছে।আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি পরিবার যেন ভালো থাকে।