বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ফিরলেন মনজুর

aunonnews (21)সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট: আমৃত্যু পিতা ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। তিনি নিজেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে থেকে তিনবার চসিক কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। মাঝে অভিমান করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মেয়র পদে মনোনয়ন পেয়েছিলেন, নির্বাচিতও হয়েছিলেন। গত বছরের ২৮ এপ্রিল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন বিএনপির রাজনীতিকে বিদায় জানান তিনি। এক বছরের মধ্যে আবারও মিশে গেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শের সঙ্গে। তিনি সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম, মিষ্টভাষী, সজ্জন হিসেবে যার পরিচিতি চট্টগ্রামে।

এবছর নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলতুন্নেছা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন’র ব্যানারে এম মনজুর আলম পালন করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১ তম শাহাদাতবার্ষিকী। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দু:স্থদের মাঝে বস্ত্র ও খাবার বিতরণ করা হয়।

সোমবার সকালে নগরীর উত্তর কাট্টলী বাগানবাড়িতে খতমে কোরআন, দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক মেয়র মো. মনজুর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তারই ভাতিজা আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মো. দিদারুল আলম।

আকবর শাহ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলতান চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক কাজী আলতাফ, সীতাকুন্ড উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন ছাবেরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল বাকের ভূইয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অবশ্য এম মনজুর আলম যখন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ছিলেন, তখনও মেয়র হিসেবে ১৫ আগস্ট শোক দিবস উদযাপন করেছেন। পরিচালনা করেছেন ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলতুন্নেছা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন’।

১২ বছর আগে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেছেন জানিয়ে এম মনজুর আলম বলেন, ‘আমি এই সংগঠনের ফাউন্ডার এবং নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। সভাপতি হিসেবে আছেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।’

বঙ্গবন্ধুকে মনেপ্রাণে ধারণ করেন উল্লেখ করে মনজুর আলম বলেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছাকে আমার মায়ের মর্যাদা দিয়েছি। আগামী প্রজন্মও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করবে।

আগামী বছর থেকে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঢাকায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হবে বলেও জানান তিনি।

পিতা থেকে পরবর্তী চতুর্থ প্রজন্ম পর্যন্ত সবাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ বলে জানালেন এম মনজুর আলম।

‘আমার বাবা আমৃত্যু আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন। আমিও আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছি। দলের হয়েই কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছি। বর্তমানে আমার ভাতিজা সংসদ সদস্য। আমার ১১ বছরের এক নাতি শেখ রাসেল জাতীয় শোক দিবস উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক। আমাদের পুরো পরিবার আওয়ামী রাজনীতি সঙ্গে জড়িত এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী।’ বলেন এম মনজুর আলম।

ফের আওয়ামী লীগে ফিরেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফিরে আসা নয়, আমি যেখানে গিয়েছি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করেছি। বিএনপির মেয়র থাকা অবস্থায়ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছি। বঙ্গবন্ধুকে সম্মানের ক্ষেত্রে কোন কার্পণ্য ছিল না। কারণ রাজনীতি আলাদা বিষয়, বঙ্গবন্ধু সবার উর্ধ্বে।’

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এম মনজুর আলমের বাবা আবদুল হাকিম কন্ট্রাক্টর স্বাধীনতার আগে থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। স্বাধীনতার পরে উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। আমৃত্যু ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য। নিজের অবস্থান থেকে দলের জন্য কাজ করে গেছেন।

নগরে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে নিতে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, যা আজও স্মরণ করেন আওয়ামী লীগের নেতারা। প্রয়াত আবদুল হাকিম কন্ট্রাক্টরের মৃত্যুবার্ষিকীতে উপস্থিত থাকেন নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। গত ১০ জুন অনুষ্ঠিত ২০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

স্মরণ সভায় মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘মরহুম আবদুল হাকিম কন্ট্রাক্টর সমাজসেবা ও রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত। নগরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে ঘরে ঘরে গিয়ে কর্মী সংগ্রহ করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছিলেন নির্লোভ ও নিবেদিত প্রাণ। প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে প্রাপ্তি প্রত্যাশা করেননি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি মনেপ্রাণে ধারণ করেছিলেন।