বঙ্গবাহাদুর আর নেই

বঙ্গবাহাদুর আর নেই
বঙ্গবাহাদুর আর নেই

ডেস্ক রিপোর্ট:

বানের পানিতে ভেসে আসা বুনো হাতি বঙ্গবাহাদুর আর নেই। মঙ্গলবার সকাল ৭টায় সরিষাবাড়ি উপজেলার কয়রা গ্রামের বাদা বিলে মারা যায় সে। গত ২৮ জুন বন্য হাতিটি ব্রহ্মপুত্র নদ বেয়ে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছিল। এরপর বগুড়ার সারিয়াকান্দি হয়ে যমুনা নদীর পানিতে ভেসে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মনসুর নগর ইউনিয়নের দুর্গম ছিন্নার চরে ১১দিন অবস্থান নেয় বঙ্গবাহাদুর ।

এক মাসের বেশি সময় ধরে পিছু পিছু ঘোরার পর গত ১১ অগাস্ট ট্রাঙ্কুলাইজার দিয়ে অচেতন করে ডাঙ্গায় তোলা হয় হাতিটিকে। পায়ে শিকল ও রশি দিয়ে একটি আমগাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে শুরু হয় সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া।

এদিকে অতিরিক্ত চেতনানাশক প্রয়োগে নয়, গরমেই বঙ্গ বাহাদুরের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন হাতি উদ্ধারকারী দলের প্রধান ও ঢাকার আগারগাঁও এর বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক।

তিনি বলেন, ‘১৫ অগাস্ট অতিরিক্ত গরম ছিল। আমরা হাতিটাকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছি। এমনকি শ্যালো ইঞ্জিন চালিত মেশিন দিয়ে হাতির গায়ে পানিও দিয়েছি। কিন্তু হাতিকে আমরা রক্ষা করতে পারিনি’।

অতিরিক্ত চেতনানাশক প্রয়োগ সম্পর্কে তিনি বলেন, অতি স্বল্প মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছিল। এ মাত্রার ওষুধে হাতি মারা যাওয়ার কথা নয়।

এর আগে, উদ্ধারকারী দলের সহকারী পশু চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমান সোমবারও বলেছিলেন, অসুস্থ হয়ে পড়লেও তারা বঙ্গবাহাদুরে জীবনশঙ্কা করছেন না।  দেড়মাসের বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় এক হাজার আটশ কিলোমিটার পথ হাতিটি অতিক্রম করেছে। পর্যাপ্ত খাবার, ঘুম ও সঙ্গীহীন হয়ে পড়ায় হাতিটির দুর্বল হয়ে পড়া স্বাভাবিক।

‘বঙ্গবাহাদুর’কে কলাগাছ, কলা, আখ, গুড়, বাঁশপাতাসহ পর্যাপ্ত খাবার, স্যালাইন ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

যত্ন চললেও উদ্ধারকারী দলের বড় দুশ্চিন্তা ছিল বুনো হাতিটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া। পাঁচ টন ওজনের এই পুরুষ হাতিকে সরিয়ে নিতে ট্রাক ও ক্রেন ব্যবহারের কথা ভাবা হলেও কয়রা গ্রামের এক কিলোমিটারের মধ্যে রাস্তা না থাকায় তা সম্ভব ছিল না।

তবে তাদের সব উদ্যোগ ব্যর্থ করে দিয়ে মঙ্গলবার সকালে মারা যায় হাতিটি।