মিরসরাইয়ে দুই জেএমবির কেন্দ্রীয় নেতাকে খুজছে পুলিশ

মিরসরাইয়ে দুই জেএমবির কেন্দ্রীয় নেতাকে খুজছে পুলিশ
মিরসরাইয়ে দুই জেএমবির কেন্দ্রীয় নেতাকে খুজছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ;

মিরসরাইয়ে দুই জেএমবির কেন্দ্রীয় নেতাকে খুজছে পুলিশ।তারা মিরসরাই এলাকার বাসিন্দা বলে সন্দেহ পুলিশের।পুলিশের ধারণা, জঙ্গিদের আতুরঘর এই মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড।

স্থানীয়দের তথ্যমতে,পুলিশের তালিকাভুক্ত জেএমবির অন্তত দুজন কেন্দ্রীয় নেতার বাড়ি সোনাপাহাড় গ্রামে।প্রায় পাঁচ বছর আগে এই গ্রামে জঙ্গিদের আনাগোনা বাড়ে।এ গ্রামের আরো কয়েকজন জঙ্গি দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে।গ্রামের শফিউল ইসলামের ছেলে ইমরান হোসেন শিহাব, মনু মুন্সির ছেলে হারুনুর রশীদ ওরফে রুবেল, আবুল বশরের ছেলে রাসেল ওরফে মামুন, সেকান্দার বাদশার ছেলে হেলাল উদ্দিন ওরফে হেলাল, তোফাজ্জল হোসেন দুলালের ছেলে মিনহাজুল ইসলাম সাজিল ওরফে সাজিদসহ বেশ কয়েকজন দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলার সঙ্গে যুক্ত।

সিএমপি তথ্যমতে, জঙ্গিদের যে তালিকা সিএমপির হাতে রয়েছে, তাতে অন্তত দুজন শীর্ষ জঙ্গিসহ কয়েকজনের বাড়ি মিরসরাইয়ের সোনাপাহাড় গ্রামে। সম্প্রতি কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের ওপর বোমা নিক্ষেপকারী জঙ্গি জসিম ও হাসানের বাড়িও এই গ্রামে।গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর গাজীপুরে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত মামুন ও হেলালের বাড়িও সোনারপাহাড় গ্রামে। চট্টগ্রাম নগরীর মাঝিরঘাটে সাহা করপোরেশনে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার জঙ্গি মিনহাজুল ইসলাম মধ্যম সোনাপাহাড় গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়,সোনাপাহাড় গ্রামের হারুনুর রশিদ ওরফে রুবেল ও এমরান হোসেন শিহাব জেএমবির কেন্দ্রীয় নেতা। তারা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছে।এর আগে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি রাতে একটি চলন্ত ট্রাকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় শিহাব ও তার সহযোগীরা।এ ঘটনায় নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী এনামুল হক মারা যান। ঘটনাস্থল থেকে শিহাবকে আটক করে জোরারগঞ্জ থানার পুলিশ। কিন্তু স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগ নেতা তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগ আছে।

অন্যদিকে মিনহাজ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর সোনাপাহাড় গ্রামে অভিযানে যায় পুলিশ। গ্রামের প্রবেশপথে পুলিশের সঙ্গে দেখা হয় জঙ্গি রুবেলের। পুলিশ তার কাছেই জানতে চায় রুবেলকে চেনেন কি না। পুলিশকে বোকা বানিয়ে রুবেল চ¤পট দেন। পরে রুবেল ও শিহাব এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেন।

নগরীর মাঝিরঘাটে সাহা করপোরেশনে ডাকাতি ও খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার মিনহাজুল তার জবানবন্দিতে জানান, রুবেল ও তার বাড়ি একই গ্রামে। রুবেলের হাত ধরে তার জঙ্গি হয়ে ওঠার কাহিনিও তিনি পুলিশের কাছে বর্ণনা করেন। নগরীর বায়েজিদের চন্দ্রনগরে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেয়া এবং রুবেলের পরামর্শে সত্য গোপালকে হত্যা করে টাকার ব্যাগ লুটের কথাও পুলিশের কাছ স্বীকার করেন তিনি। মিনহাজ বর্তমানে চট্টগ্রাম কারাগারে আছেন।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের এক সপ্তাহের মধ্যে সীতাকুণ্ড পৌরসদরে দুটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এর আগে রাজধানীর হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁ ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর পুলিশ প্রশাসন আঙুল তুলেছিল মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ উপজেলার সোনাপাহাড় গ্রামের দিকে। স্থানীয়ভাবে জঙ্গিদের গ্রাম হিসেবেও পরিচিত এই গ্রাম। আর এ মিরসরাই থেকেই যাত্রা শুরু হয় জেএমবির।