কুমিল্লা গন্ধমতিতে ‘অপারেশন স্ট্রাইক আউট’ শুরু

কুমিল্লা গন্ধমতিতে ‘অপারেশন স্ট্রাইক আউট’ শুরু
কুমিল্লা গন্ধমতিতে ‘অপারেশন স্ট্রাইক আউট’ শুরু
কুমিল্লা গন্ধমতিতে ‘অপারেশন স্ট্রাইক আউট’ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লা শহরের কোটবাড়ির দক্ষিণ বাগমারা সংলগ্ন গন্ধমতিতে সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন স্ট্রাইক আউট’ শুরুু হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টায় এই অভিযান শুরু হয়। অভিযানে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট অপারেশন ম্যাক্সিমাস অভিযানে অংশ নিচ্ছে।ঘটনাস্থল থেকে দুই কিলোমিটার এলাকায় জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এক কিলোমিটার দূরে মিডিয়াকর্মীদের থামিয়ে দেয়া হয়েছে। আস্তানার আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।সবাইকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।একই সাথে আস্তানার আশপাশের এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তায় সবার প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিশ্বরোড থেকে কোটবাড়ি সড়কে যাওয়ার পথও বন্ধ।আস্তানার আশপাশের এলাকায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা রয়েছেন।ফায়ার সার্ভিস টিমও অবস্থান বাড়িটির পাশে নিয়েছে।

বাড়ির ভেতরে আটকে পড়াদের কাবু করতে দেয়াল ছিদ্র করে গ্যাস ছোড়া হচ্ছে।এই গ্যাস ভেতরে থাকা সন্দেহভাজন জঙ্গিদেরকে অজ্ঞান করে দেবে বলে জানিয়েছেন

পুলিশের জঙ্গিবিরোধী বিশেষ শাখা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

জানা গেছে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগের দিন কোটবাড়িসংলগ্ন দক্ষিণ বাগমারার দেলোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। জঙ্গি পাওয়ার খবরে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।বুধবার বিকেল থেকে ঐ জঙ্গি আস্তানাটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। বোমা ডিসপোজাল টিম, সোয়াত টিম, কাউন্টার টেররিজম টিম, র‌্যাব ও পুলিশের সদস্যরা বাড়ির চারপাশে অবস্থান করছেন।দেলোয়ার হোসেনের নির্মাণাধীন তিনতলা বাড়িটির নিচতলায় জঙ্গি রয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।বাড়িটির নিচতলার আরেক পাশে বিজিবির এক সদস্যের পরিবার ভাড়া থাকে। দ্বিতীয় তলায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেস করে থাকেন। তৃতীয় তলার নির্মাণকাজ এখনো কাজ শেষ হয়নি।

সিলেটের আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ শেষ হওয়ার পরই পাশের জেলা মৌলভীবাজারে দুটি জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন হিট ব্যাক’ নামে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এই অভিযানে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সঙ্গে সোয়াতও যোগ দেয়।

নাসিরপুরে বৃহস্পতিবার অভিযান শেষে ছিন্নভিন্ন সাত থেকে আটজনের লাশ পাওয়া যায়। শুক্রবার সকাল থেকে বড়হাটের সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্ট্রাইক আউট’। বর্তমানে বাড়িটির ভেতরে একজন জঙ্গি আছে এবং তার কাছে ছয়টি শক্তিশালী বোমা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুক্রবার সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে শহরের আবুশাহ দাখিল মাদ্রাসার গলিতে দোতলা বাড়িটির আশপাশ থেকে গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।  সকালে ঘটনাস্থলে এসেছিলেন মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. শাহজালাল। তিনি বড়হাট এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয়দের সরিয়ে দেওয়ার কাজ তদারকি করছেন। সাংবাদিকদেরও যেন জটলা বেঁধে এ এলাকায় দাঁড়িয়ে না থাকেন সে জন্য অনুরোধ করেছেন।