‘শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে’

'শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে'
'শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে'
‘শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে’

নিউজ ডেস্ক: সাম্প্রতিককালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সামরিক অভিযান ও সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে আশ্রয় নেওযা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো নিয়ে বাংলাদেশ এক নজিরবিহীন সঙ্কটের মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রতিকূলতার মাঝেও আমরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সফল হব।

প্রধাসমন্ত্রী আরো বলেন, সাম্প্রতিককালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সামরিক অভিযান ও সহিংসতার প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা সমস্যা জটিল আকার ধারণ করেছে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখনকার পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই মাসের মধ্যে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে ১০ লাখের অধিক ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত’ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বসবাস করছে। এই বিপুল জনগোষ্ঠিকে ভার দীর্ঘকাল বাংলাদেশে রাখা সম্ভব নয়মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে।

মিয়ানমারকেই এ সংকটের সমাধান করতে হবে, এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখ লাখ অসহায় রোহিঙ্গাকে মানবিক সহায়তা এবং তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন বিষয়ে বাংলাদেশ আজ এক নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি। মনে রাখা প্রয়োজন, রোহিঙ্গা সমস্যার মূল উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সে দেশকে করতে হবে।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে, এ দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও কর্মতৎপরতায় মিয়ানমারের জাতিগত নিধন বন্ধের দাবিটি আজ সার্বজনীন দাবিতে পরিণত হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের আবাসনের জন্য ৩ হাজার ৫০০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র করা হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার পরিবারের জন্য। ৪ হাজার ১৮২টি নলকূপ এবং ২১ হাজার ২২৪টি স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন স্থাপন হয়েছে।

এছাড়া ৩৬টি মেডিক্যাল ক্যাম্প, ১২টি মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং ৬০ শয্যার একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। আর ৩১ হাজার ৮৭৫ জন এতিম রোহিঙ্গা শিশুকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।