হাটহাজারীতে বাল্য বিয়ে চেয়ারম্যানের লঘু দন্ড ৬ জনের জেল

imagesবাবলু দাশ, হাটহাজারী(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি ঃ চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নে বাল্য বিয়েতে সহায়তার অভিযোগে গত শনিবার সন্ধ্যায় মেয়ের বাবা আবুল হাসেম (৫৪), মাদ্রাসা সুপার শহিদুল্লাহ (৩১) ও কাজী মাওলানা আবু জাফর (৫২)কে জেল এবং ইউপি চেয়ারম্যানসহ আরো চার জনতে লঘু দন্ড প্রদান করা হয়েছে। একইভাবে গত রবিবার সন্ধ্যায় হাটহাজারী পৌর সভায় অপর এক বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে এনে এক বর, আলীপুর রহমানিয়া স্কুলের কেরানি ও বিয়ের কাজী কে জেল এবং স্কুল প্রধান শিক্ষক, পৌর সহায়ক কমিটির এক সদস্য, বরের পিতা ও কনের মাতাসহ সাতজনকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে এই দন্ড দন্ডিত করেন। জানা যায়, আবুল হাসেমের মেয়ে আঞ্জুমান আরা (১৫) ধলই ইউনিয়নের গাউছিয়া মুনিরিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্রী। তার বিয়েতে সহায়তার কারণে দন্ডাদেশ প্রাপ্তদের মধ্যে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নে তার মা বিবি ফাতেমা (৪৫), ফরহাদাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত ওসমান, ইউপি সদস্য শফিউল আজম, ইউপি লিপিকার জসিম উদ্দিন জরিমানা দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন। মেয়ের বাবা, মাদ্রাসা সুপার ও কাজীকে গতকাল(রবিবার) জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে হাটহাজারী পৌরসভায় আরজু আকতার শারমিন(১৬) পৌর এলাকার আলীপুর রহমানিয়া স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রী। তার বাল্য বিয়েতে সহায়তার কারণে বর আবদুল্লাহ তালুকদার(২৮), আলীপুর রহমানিয়া স্কুলের কেরানি নুরুল ইসলাম (২৯), কাজী মোঃ বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী(৪৫)কে সাজা দিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। আজ সোমবার তাদেরকে জেলে পাঠানো হবে। বরের পিতা- আলহাজ্ব হারুন তালুকদার(৭০),স্কুল প্রধান শিক্ষক ছাইফুর রহমান(৪৫), পৌর সহায়ক কমিটির সদস্য নুর হোসেন(৬০) ও কনের মা ঝিনু আকতার (৬০) কে এক হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, ভ্রাম্যমান আদালতের বেআইনি আদেশের বিরুদ্ধে এডিএম কোর্টে আপিল করব।
ইউএনও মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন জানান, ‘ এটি হাটহাজারী উপজেলায় বাল্য বিবাহ বন্ধ করার জন্য একটি প্রতিকী শান্তি দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আশা করি উপজেলার জনগণ বাল্য বিহাহ নিরোধের ব্যাপারে সচেতন হবে। ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত ওসমান বলেন, ইউএনও আমাদেরকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে বেআইনীভাবে জরিমানাপ আদায় করেছেন। অথচ বয়স নির্ধারনে আমার কোন ভুমিকা নেই, কারণ বয়স শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক ও প্রধানের স্বাক্ষরিত ও প্রতিস্বাক্ষরিত হয়ে সর্বশেষ ইউপিতে আসার পর আমরা স্বাক্ষর করি। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আরো বলেন, আমরা ভ্রাম্যমান আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে এডিএম কোর্টে আপিল করব।