পলাতক খোকন রাজাকারের ফাঁসি

imagesঢাকা অফিম: পলাতক খোকন রাজাকারের ফাঁসিঢাকা: ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি নেতা পলাতক এমএ জাহিদ হোসেন ওরফে খোকনের বিরুদ্ধে একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে আনা ১১টি অভিযোগের মধ্যে ১০টি প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫,৬,৭,৮,৯,১০ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।এছাড়া ২ নম্বর অভিযোগে ৫ বছর, ৩ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর, ৪ নম্বর অভিযোগে ২০ বছর ও ১১ নম্বর অভিযোগে ৫ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বাকি ১ নম্বর অভিযোগটি প্রমাণিত হয়নি। রায় ঘোষণার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান বলেন, রায়ে আমি খুশি নই। কারণ আমার মক্কেল ন্যায় বিচার পায়নি। তার বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। কারণ এমএ জাহিদ খোকন ও খোকন মাতব্বর ও রাজকার এক ব্যক্তি নন। আমার মক্কেল এমএ জাহিদ খোকন মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন নারায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন আসামি চাইলে আপিল করা হতে পারে।এদিকে গতকাল বুধবার ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। এর আগে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বিচারকার্যক্রম শেষে গত ১৭ এপ্রিল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। ওইদিন খোকনের বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগের বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে রাষ্ট্রপক্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধে তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কামনা করে। ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধে খোকনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। তার বিরুদ্ধে ১৬ জন নারী ও শিশুসহ ৫০ জনকে হত্যা, তিনজনকে পুড়িয়ে হত্যা, ২ জনকে ধর্ষণ, ৯ জনকে ধর্মান্তরিত করা, ২টি মন্দিরসহ ১০টি গ্রামের বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, ৭ জন গ্রামবাসীকে সপরিবারে দেশান্তরে বাধ্য করা ও ২৫ জনকে নির্যাতনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ আনা হয়। তিনি হাজির না হওয়ায় ওই বছরের ১৪ আগস্ট তার অনুপস্থিতিতেই বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তার পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় আব্দুস শুকুর খানকে।
ওই বছরের ১৯ নভেম্বর খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে তার মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ২১ নভেম্বর থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তা সত্যরঞ্জন দাশসহ খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে মোট ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। পলাতক এই আসামির পক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী জবানবন্দি পেশ করেনি। কারণ আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান মোট ৩০ জন সাক্ষীর তালিকা ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো সাক্ষী আদালতে আনতে না পারায় তিনি তার আবেদন প্রত্যাহার করে নেন