ফটিকছড়িতে শীতকালীন সবজি মূলার আগাম চাষ হচ্ছে

মোঃ আবু মনসুর প্রতিনিধি ফটিকছড়ি:fatickchari(moola) ফটিকছড়ি উপজেলার উপর বয়ে যাওয়া হালদা আর ধুরুং খালের পাশে গজে উঠা বিশাল বিশাল চর জুড়ে আগাম শীতকালিন সবজি মূলা চাষে ভরপুর হচ্ছে। এসব মূলা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন অঞ্চলে। এখানকার চরের মাটি মূলা তথা সবজি চাষের ব্যাপক উপযোগী হওয়ায় শুকনো মৌসুমেও সবজি চাষে ভরে যায় এসব চরাঞ্চল। যেসব সবজি উৎপাদন হয় এখানে তার বেশিরভাগই মূলা। পিংকী, তাসাকৃষাণ,রপসা প্লাস, আইবরি হোয়াইট আগাম স্থানীয় জাত। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর হতে প্রাপ্ত তথ্য মতে, হালদা ও ধুরুং খালের চর ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ধানি জমিতেও এসব মুলা চাষ করা হচ্ছে। উপজেলার ৫ শত ২১ হেক্টর এলাকায় মুলা চাষ করা হয়েছে চলতি মৌসুমে।
উপজেলার, কাঞ্চননগর, হারুয়ালছড়ি, দৌলতপুর, সুন্দরপুর, সুয়াবিল, রোসাংগিরী ইউনিয়নের বেশ এলাকা জুড়ে করা হয়েছে এসব মূলা চাষ। এসবের মধ্যে রয়েছে কয়েক প্রজাতির মূলা।উৎপাদিত এসব মূলাসহ নানা সবজি বিক্রির জন্য বিভিন্ন বাজারে প্রতিদিন ভোর সকালে বসে একটি সবজি বাজার। যেখানে চট্টগ্রাম শহর থেকে পাইকাররা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে শহরাঞ্চলে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভোর সকালে ভ্যানগাড়ি করে উৎপাদিত মূলা নিয়ে আসেন চাষারা। তাদের জন্যই পূর্ব থেকেই অপেক্ষায় থাকেন শহর থেকে আসা পাইকাররা। আমাদের এ বাজার থেকে প্রতিদিন কয়েকশ মন করে মূলা বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার কাঞ্চন নগর মানিকপুর গ্রামের মামুন নামক এক মূলা চাষা বলেন, আগাম মূলা চাষ অনেকটা লাভজনক চাষ। কারণ এটি সল্প সময়ে উৎপাদন করে বিক্রি করা সম্ভব। এছাড়া এসব চাষের ফাঁকে ফাঁকে একই জমিতে অন্য ফসলাধিও রোপন করা সম্ভব।ভুজপুর থানার সুয়াবিলের ইউনিয়নের হালদার চরের দীর্ঘদিন যাবৎ মূলা চাষ করে আসা মোঃ ইকবাল হোসেন নামক অপর এক চাষা জানান, প্রতি বছরের চেয়ে এবার মূলার ফলন ভালো হয়েছে। দামও পেয়েছেন তিনি সন্তোসজনক। স্থানীয় বাজারে বিক্রিসহ প্রতি বছর হালদার চরের বিশাল বিশাল আকৃতির মূলা মাইজভান্ডার দরবার শরীফের ওরশের সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যান দরবারে আসা লোকজন। ফটিকছড়ি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা লিটন দেব নাথ বলেন, এ অঞ্চলের মাটি মূলা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। রোগবালাই সহ পোকামাকড় থেকে রক্ষা করতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ আমরা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর থেকে নিয়মিত প্রদান করে আসছি।