প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা: নওফেল

নিরাপদ সড়ক চেয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে ১০টি দ্বিতল বাস পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব বাস শুধু চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনা-নেওয়া করবে। বছরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ১০টি বাসের যাত্রা উদ্বোধন করেন। রোববার থেকে নগরীতে বাসগুলো চলাচল করবে।

দেড় বছর পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ১০টি বাস চট্টগ্রামে চালু করতে যাচ্ছে। মাত্র পাঁচ টাকায় শিক্ষার্থীরা যেকোনো রুটে যাতায়াত করতে পারবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘কিছুদিন পরেই এই বাংলাদেশ আমরা যে মহান নেতার জন্য পেয়েছি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ শুরু হচ্ছে। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাতৃস্নেহে চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বাস উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন। সেই উপহার আমি তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়ে গেলাম।’

শিক্ষার্থীদের বাসগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নওফেল বলেন, ‘এই বাস তোমাদের সম্পদ। তোমরা নিজেদের দায়িত্বে তোমাদের সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করবে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে গিয়ে বলব, উনার মাতৃস্নেহে পাঠানো উপহার, ভালোবাসার নিদর্শন তোমরা দেখভাল করে রাখছ। তোমরা অবশ্যই বাস ব্যবহারের যে নিয়মকানুন করা হয়েছে, সেগুলো পালন করবে। স্কুলের ইউনিফর্ম পরে বাসে উঠতে হবে। পাঁচ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে, সততার সাথে সবাই সেটা দেবে। কারণ, তোমরাও একদিন মন্ত্রী-এমপি-বিচারক-জেলা প্রশাসক হবে, সেদিন যাতে তোমরা সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পার, এই শিক্ষাটা স্কুল থেকে নিতে হবে।’

শিক্ষাখাতে সরকারের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের বয়সে যখন আমরা স্কুলে পড়তাম, আমরা আমাদের বড় ভাইবোনদের, আত্মীয়স্বজনের বই ব্যবহার করতাম। সঠিক সময়ে আমরা বইখাতা পর্যন্ত পেতাম না। এখন বছরের প্রথমদিন সারাদেশে ৩৫ কোটি বই শেখ হাসিনার কারণে আমরা পাই। এটা তখন আমরা চিন্তাও করতে পারিনি। আমরা যেসব স্কুলে পড়েছি, তখন আমরা স্কুলে কম্পিউটার দেখব সেটা কখনো চিন্তাও করতে পারিনি, চোখেও দেখিনি। আজ প্রাইমারি স্কুলে পর্যন্ত কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট আসছে। যতই আমরা পাচ্ছি, ততই শেখ হাসিনার কাছে আমাদের প্রত্যাশা বেড়ে যাচ্ছে, এই প্রত্যাশার অংশ হিসেবে তোমরা চেয়েছ বাস। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাতৃস্নেহে তোমাদের জন্য উপহারটা পাঠিয়েছেন। ’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নওফেল আরও বলেন, ‘স্কুল-কলেজ থেকে পাস করে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে, বড় পদে যেতে হবে, এই চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পড়ালেখা শেখার পরও সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপনে কোনো লজ্জা নেই। কোনো পেশাকে ছোট করে দেখবে না। আমরা যারা বিদেশে পড়ালেখা করেছি, দিনে তিনটা চাকরি করতে হত, সেই আয়ে পড়ালেখা করতে হত। আমরা কেউ রেস্টুরেন্টে বার্গার বানিয়েছি, কেউ বা সিকিউরিটির কাজ করেছে, এতে কোনো লজ্জা নেই। পড়ালেখা করে একজন বাসচালক হওয়া, একটা কৃষিখামার করা, মাছ চাষ করা- এসব করা যাবে না, এমন চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যা করলে আমি আমার জীবনকে সাজাতে পারব, সেটাই আমার করা উচিত।’

বিআরটিএ চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপক এম জেড রহমান বলেন, ‘মাত্র পাঁচ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। আজকের দিনে পাঁচ টাকা ভাড়া দেওয়া কোনো বিষয় নয়। বাসে কোনো ভাড়া কালেক্টর থাকবে না। দুটি বক্স থাকবে, শিক্ষার্থীরা নিজ দায়িত্বে সেখানে ভাড়া ফেলে যাবেন। বাসে ওঠানামার জন্য শুধু দুজন সাহায্যকারী থাকবেন। এই বাস থেকে কোনো লাভের চিন্তা আমাদের নেই। শিক্ষার্থীরা যদি সঠিকভাবে এই বাসের রক্ষণাবেক্ষণ করে, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক এই উদ্যোগ টিকে থাকবে।’

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন স্তিমিত করে ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা আমার কাছে এসেছিলেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্কুলবাস চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশা করি, শিক্ষার্থীরা পরম যত্নে আগলে রাখবে। প্রতিটি বাসে ৬টি সিসি ক্যামেরা থাকবে। কেউ যদি ভাড়া পরিশোধ না করেন, সেটা সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়বে। সেই শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করে স্কুল কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, এমনকি তাকে বহিষ্কারও করা হতে পারে।’

ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী তাজফিয়া তারেক বলেন, ‘স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় রিকশা কিংবা বাসের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হত। এখন বাসে সহপাঠী, বন্ধুদের সঙ্গে আসা-যাওয়া করব। আর গাড়ির জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না।’

অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক, বাস পরিচালনায় সহায়তাকারী জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের কর্মকর্তা আলমাস শিমুলও বক্তৃতা করেন।