সীতাকুণ্ডে জাহাজ ভাঙা শ্রমিকদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

অশোক দাশ, সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত দেশের একমাত্র জাহাজ ভাঙা শিল্প প্রতিষ্ঠান। প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন কাজ করেন হাজারের অধিক শ্রমিক।

এ সমস্ত শ্রমিকরা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে জাহাজ ভাঙ্গার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকা লকডাউন করায় এখানে কাজ করা হাজার হাজার শ্রমিক নিজ এলাকায় যেতে না পেরে ও খাদ্য সঙ্কটে বর্তমানে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।

এছাড়া চীনে প্রথম (কভিড-১৯) ধরা পড়ায় বর্তমানে অনেক ইয়ার্ডে জাহাজ না আসায় একদিকে চরম ব্যবসায় লোকসান গুনছে এ শিল্পের সাথে জড়িত মালিকগণ।

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মহামারী করোনা’র কারনে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে মানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছে সীতাকুণ্ড তথা দেশের অন্যতম এনজিও সংস্থা, স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নের সংগঠন “ইপসা”

বিভিন্ন এলাকায় দরিদ্র অসহায় লোকদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন কে প্রতিনিয়ত সহযোগিতা করে আসা এ প্রতিষ্ঠান তার‌ই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় অবস্থিত শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের কর্মহীন ১০৭০ জন শ্রমিককে খাদ্য সামগ্রী উপহার বিতরণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন।
তিনি এই মহৎ উদ্যোগের জন্য ইপসা’কে ধন্যবাদ জানান এবং এই শ্রমিকদের জন্য এগিয়ে আসার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এ কর্মসূচীর সাথে সংহতি প্রকাশ করেন,সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায়। তিনি এই মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
সংস্থার প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান দেশের এই অরক্ষিত পরিস্থিতিতে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

তিনি বলেন,বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেই ধারা অব্যাহত রাখার জন্য ‘ইপসা’ অবদান অব্যাহত রেখে চলেছে এবং তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের এই উদ্যোগ। সীতাকুণ্ডে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের জন্মলগ্ন থেকেই ‘ইপসা’ শ্রমিকদের অধিকার আদায় ও সুরক্ষার জন্য কাজ করছে এবং শ্রমিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যে কোন বিষয়ে সরকার ও শিল্প মালিকদের সাথে এক হয়ে কাজ করে চলেছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের তিনি সরকারি বিধি নিষেধ মেনে চলার ও সার্বক্ষণিক পরিচ্ছন্ন থাকার অনুরোধ জানান।

তিনি আরো বলেন,শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের কর্মহীন শ্রমিকদের প্রতি এই মহান দায়িত্ব পালন করায় আমি ব্যাক্তিগত ভাবে “ইপসা”কে ধন্যবাদ জানাই। এই সংস্থার একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে গর্ববোধ করছি।