অণুগল্প-প্রতিবেশী ভাবনাগুলো নাচে, মৃত্যুঞ্জয় হাসে

রাজীব কুমার দাশ:

প্রতিবেশীর ভাবনাগুলো এক সময় রবি’কে বেশ আহত করতো। প্রতিবেশীর বলতে না পারা হিংসা জ্বালা ভাবনার আগুনে পানি ঢেলে রবি জনগনের সেবায় ঘর ছেড়ে প্রতিবেশীর দেয়া বিদায়বেলা-কান গরমে ‘বাবা তোমার জন্য গর্ভ করি’অস্ফুট বিদ্রুুপ টিপ্পনী হজমে এখন সরকারের সেবক।

রবি গাঁয়ের ছেলে। বারণাবত গাঁয়ে পঞ্চপাণ্ডবের বিশ্রামে দেয়া আগুন না দেখেই লেলিহান শিখার শিহরণ অনুভব করতে পারেন। চাকরিতে ঢোড়া -দাঁড়াশ না সেজে একলাফে অজগর! রংবাহারি লাইট-লেসার নামফলক, ডেকোরেশন, মকমল সোফায় বসে-শুয়ে  দেশসেবা! মাছের কাঁটা, হাড্ডি মাংস রবির এখন বেশ অপছন্দ! এতো সময়টা কোথায়? অজগরের মতো গিলে-গিলে ঘুম! রবির ড্রয়িং -বেড-ডাইনিং এখন অজগরে ঠাঁসা।

করোনা অতিমারী রবি’র বেশ পছন্দ! আগে কেউ-কেউ রবির খাবারে বাগড়া বসাত। তারা ছাগল-ভেড়া নিয়ে টানাটানি! এখন করোনাতে কেউ তাকাতে আসেনা। রবি ছাগল-মহিষ-গরু সবই খেয়ে ফেলে। রুচিতে -অভিরুচি! প্রতিবেশী ভাবনায় সব জঞ্জাল-আপদ দূর করে রবি বহুরুপী বহুমুখী সরীসৃপ গিরগিটি স্তন্যপায়ী ফান্ড নিয়ে মহাব্যস্ত! করোনা অমর ভাবনা গবেষনায় রবি “মৃত্যুঞ্জয়”সেজে হাসে। পরিবারের কেউই হাড্ডি কাঁটা চেনেনা, গিলে-গিলে পিলে চমকিয়ে উঠেনা।

প্রতিবেশী হিংসা ভাবনায় এখন রবি’রা আহত-নিহত কোনোটাই হননা! সব ভাবনায় কখন রবি’রা হাসেন-কাঁদেন-মৃত্যুঞ্জয় সেজে দেশ দরদী হয়ে নির্ঘুম রাত কাটান! তা- রবি’রা ভালো জানেন।