পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, বসে থাকার উপায় নেই: খালেদা

95673_1ঢাকা অফিস: আবারো সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।রবিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।খালেদা জিয়া বলেন, ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এজন্য একটি নির্বাচনের পন্থা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বের করার আহ্বান আমরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে জানিয়ে আসছি।’তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে প্রায় এক বছর চলে গেছে। মানুষের অবস্থা ও দেশের পরিস্থিতি দিন-দিন খারাপ হচ্ছে। সকলের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ আহ্বানে তারা সাড়া দেয়নি। তাই আমাদের বসে থাকার আর কোনো উপায় নেই।’বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘দেশের জনগণ আন্দোলন চায়, পরিবর্তন চায়। তারা তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা ভোট দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সে জন্য তারা বিএনপি ও ২০ দলের প্রতি আন্দোলন করার জন্য প্রতিনিয়ত আহ্বান জানাচ্ছে।’তিনি বলেন, ‘আমি যেখানেই যাচ্ছি, দলে দলে লোক এসে আন্দোলনের দাবি জানাচ্ছে। কাজেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অচিরেই আমাদেরকে আন্দোলন শুরু করতে হবে। আমরা অস্ত্রের মোকাবিলায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পথে নামবো।’ খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক, জনগণের আন্দোলন। জনগণের সেই আন্দোলনে স্বৈরাচারী, অবৈধ সরকার তাসের ঘরের মতো ভেসে যাবে, ইনশআল্লাহ্।’তিনি বলেন, এ দেশে গত ৫ জানুয়ারি কোনো ভোট হয়নি। ভোট ছাড়া কোনো সরকার বৈধ হতে পারে না। কাজেই এখন একটি অবৈধ সরকার ক্ষমতায় আছে জোর করে। এরা বিনাভোটেই সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নিয়েছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩০০ আসনের মধ্যে সংসদের ১৫৪ আসন তারা পেয়েছে বলে ঘোষণা করেছে।বিএনপি চেয়ারপারসন দাবি করেন, বাকি আসনগুলোতে শতকরা ৫জন ভোটারও ভোট দিতে যায়নি। ৪৮টি ভোটকেন্দ্রে একজন ভোটারও যায়নি, একটি ভোটও পড়েনি। খুবই লজ্জাজনকভাবে পুলিশ ও প্রশাসনকে দিয়ে তারা কিছু ব্যালট পেপারে সিল দিয়ে বাক্সে ঢুকিয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রহসনে বিএনপিসহ কোনো বিরোধী দল অংশ নেয়নি। এভাবে বিনাভোটে না-কি তারা গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষা করেছে! আসলে সংবিধান নয়, গণতন্ত্র নয়, তারা রক্ষা করেছে তাদের ক্ষমতাকে। আর কেড়ে নিয়েছে জনগণের সকল অধিকার।
খালেদা জিয়া বলেন, এই প্রহসন করার উদ্দেশ্যেই তারা খেয়ালখুশি মতো আগেই একতরফাভাবে সংবিধান তছনছ করে ফেলেছিল। তারা মনে করে তাদের এইসব ধূর্ত অপকৌশল দেশ-দুনিয়ার মানুষ কিছুই বোঝে না। মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আবদুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমর, যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মুহাম্মদ ইব্রাহিম বীরপ্রতীক, বিএনপির প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক শফিউজ্জামান খোকন, মুক্তিযোদ্ধা সাদেক খান প্রমুখ।