দুর্নীতির মামলায় রেলের ১৩ কর্মকর্তার বিচার শুরু

হিসাব বিভাগের অডিটর পদে দুর্নীতির মাধ্যমে অযোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগের মামলায় রেলওয়ের ১৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঘটনার সময় ১৩ কর্মকর্তার সবাই রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল শাখায় কর্মরত ছিলেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিভাগীয় বিশেষ জজের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেন এ আদেশ দিয়েছেন। আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পরে নির্ধারণ করবেন বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌঁসুলি কাজী সানোয়ার আহমেদ লাবলু।

আসামিরা হলেন- ২০১৭ সালে অভিযোগপত্র দাখিলের সময়ের পদবি অনুযায়ী, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত এফএ/সিএ ও বর্তমানে সিভিল অডিট অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, পূর্বাঞ্চলের (চট্টগ্রাম) হিসাব কর্মকর্তা এবিএম মফিজুল ইসলাম, রেল ভবনের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ও বর্তমানে বাণিজ্যিক অডিট অধিদফতরের উপ-পরিচালক জিএম মামুনুর রশিদ, রেলের সিআরবি চট্টগ্রাম জোনের ডিএফএ এএফএম শহীদুল্লাহ ও মো. আনিসুল হক, অডিটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা হোসনা আক্তার (চট্টগ্রাম), রেলওয়ে ঢাকা অফিসের অডিটর ফারজানা সুলতানা, দিনাজপুর অফিসের অডিটর মো. নুরুল আমিন, চট্টগ্রামের অডিটর (প্রশাসন শাখা), সঞ্চিতা সাদেক, রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চলের অডিটর অপূর্ব বিশ্বাস ও জিএম আবুল কালাম, রেলওয়ে ঢাকা অফিসের অডিটর মো. মনিরুজ্জামান এবং নীলফামারী (সৈয়দপুর) অফিসের অডিটর প্রদীপ কুমার সরকার।

১৩০ বছর ধরে রেলের বেতন যায় ট্রেনে!
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০১১ সালের ২৭ মার্চ রেলওয়ের অডিটর পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির জন্য দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। মোট ৫ হাজার ১০৮ জন বৈধ আবেদনকারীর মধ্যে এক হাজার ৯৪৩ জন ওই বছরের ২৮ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় এক হাজার ৮৫ জন উত্তীর্ণ হন। এদের মধ্যে কোটাভিত্তিক ২০১৭ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০১২ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৯৬ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। ২৫ জানুয়ারি টেবুলেশন শিট তৈরি করে ওইদিনই ৬৩ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করে নিয়োগ কমিটি।

২০১২ সালে রেলওয়ের নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ উঠলে অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে দেখা যায়, পোষ্য কোটায় পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান অধিকারী প্রার্থীকে বাদ দিয়ে নিয়োগ কমিটির সদস্যরা পরস্পর লাভবান হয়ে সপ্তম হওয়া প্রার্থীকে নিয়োগ দানের সুপারিশ করেছেন এবং তিনি নিয়োগ পেয়েছেন। মামলার অভিযোগপত্রে নিয়োগ পাওয়া ওই প্রার্থী হোসনা আক্তারকেও আসামি করা হয়।

‘দুর্নীতির আখড়া’ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের পে অ্যান্ড ক‍্যাশ অফিস

দুদকের কৌঁসুলি কাজী সানোয়ার আহমেদ লাবলু জানান, ২০১৭ সালের ১০ মার্চ দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন বাদি হয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি মোট ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের তদন্ত। বুধবার আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬৬, ১৬৭, ২১৭, ১০৯ এবং তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫ (২) ধারায় অভিযোগ গঠন করেছেন। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় আদালত পরে নির্ধারণ করবেন বলে জানিয়েছেন।