বিএনপির আন্দোলনের ঘোষণা শুনতে শুনতে জনগণও এখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘তাদের (বিএনপির) আন্দোলনের ঘোষণা শুনতে শুনতে জনগণও এখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বিএনপির আন্দোলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতেই ১২ বছর চলে গেল, কিন্তু আন্দোলন হবে কোন বছর?’

ওবায়দুল কাদের আজ সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার, সালেহপুর ও নয়ারহাটে তিনটি সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সালেহপুর সেতুর চার লেন বিশিষ্ট দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। সেতুমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে সরকারের অন্ধ সমালোচনা এবং সরকার পতনকেই নিজেদের কৌশল হিসেবে নিয়েছিল বিএনপি। জনগণও এখন তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান। দলীয় নেত্রীর মুক্তির জন্য তাদের আগ্রহ যতটা না বেশি, তার চেয়ে বেশি আগ্রহ সরকার বিরোধিতায়। বিএনপি নেতারা কী চান, তা তাঁরাও জানেন না।’

আওয়ামী লীগ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে বিশ্বাসী নয় মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ ঘোষণা করেছে। এটা কোনো পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নয়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে বিএনপির নেতারা এখন বলছেন, সংগঠনকে গুছিয়ে তারপর আন্দোলনে নামবেন। জনগণ এখন বুঝে গেছে বিএনপির আন্দোলনের সক্ষমতা কতটুকু। তাদের এমন অজুহাতেই একযুগ পেরোলো। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই তারা সীমাবদ্ধ।’

সেতুমন্ত্রী বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘অপরাজনীতি এবং ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার না করে জনঘনিষ্ঠ ইস্যুতে মানুষের পাশে দাঁড়ান। বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।’

পরিবহণে শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পরিবহণে যতদিন শৃঙ্খলা ফিরে আসবে না, ততদিন যতই উন্নয়ন কাজ হোক না কেন, তাতে কোনো লাভ হবে না।’

সড়ক ও পরিবহণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়কগুলোতে সৌন্দর্য রক্ষায় অনতিবিলম্বে ব্যানার, ফেস্টুন ও সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলতে হবে।’

গুণগত মান বজায় রেখে সড়কের নির্মাণকাজ করার নির্দেশনা দিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সড়কে যেসব কাজ চলমান রয়েছে, সেগুলো বর্ষার আগেই শেষ করতে হবে।’