বোয়ালখালী পৌর নির্বাচনে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশায় একঝাঁক নবীন-প্রবীণ

বোয়ালখালীতে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন একঝাঁক নবীন-প্রবীণ। ইতিমধ্যে মনোনয়ন চেয়ে আ’লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম বাবুল, মো.শফিউল আলম, মনছুর আলম পাপ্পী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এমএ ঈছা, পৌর আ’লীগের আহবায়ক জহুরুল ইসলাম জহুর, উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি শফিকুল আলম, উপজেলা আ’লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক নির্যাতিত ছাত্রনেতা ওয়াসিম মুরাদ ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আবদুল মান্নান রানা।

গত সোমবার (৮ মার্চ) উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাদের প্রার্থীতার কথা জানান দিয়েছেন। এ সভায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দীন আহমদ এমপি, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানসহ শীর্ষ স্থানীয় আ’লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় নেতৃবৃন্দ দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে কাজ করার জন্য সকলকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে।

এতে দক্ষিণ জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেছেন, ‘দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হবে। দলের ত্যাগী প্রার্থীদের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।’

২০১৪ সালের ২১ মে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে আ’লীগ নেতা রেজাউল করিম বাবুল ও আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী জহুরুল ইসলাম জহুর প্রতিদ্ধন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে ওই নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাজি আবুল কালাম আবু মেয়র নির্বাচিত হন।

মনোনয়ন প্রত্যাশী জহুরুল ইসলাম জহুর বলেন, ‘গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে আমাকে মনোনয়ন দিলেও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে অল্প ভোটে পরাজিত হয়েছিলাম। ওই সময় দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। তৃণমূলের এই নেতা জানান, দলের জন্য অনেক শ্রম রয়েছে আমার। সে বিবেচনা থেকে আওয়ামী লীগ আমাকে আবারো মনোনীত করবেন বলে শতভাগ আশাবাদী।

আরেক মেয়র প্রার্থী, মোহাম্মদ ওয়াসীম মুরাদ বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মকান্ডে একজন কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। বোয়ালখালীর সাংসদ আমার নেতা মোছলেম উদ্দীন আহমদের নির্দেশে মানুষের পাশে থেকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছি।

আগামী দিনে বোয়ালখালী পৌরসভার নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দল থেকে “নৌকা” প্রতীকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিলে নির্বাচিত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে আমি পৌরবাসীর জন্য একজন সেবক হিসেবে নিজের সর্বোচ্চ উজাড় করে সেবা করে যাবো। বোয়ালখালী পৌরসভাকে একটি পরিচ্ছন্ন, শিক্ষা বান্ধব, সন্ত্রস ও মাদক মুক্ত, মডেল এবং আধুনিক পৌরসভায় রূপান্তর করবো।

পৌর নির্বাচনের মেয়াদপূর্তির প্রায় দেড় বছর পর আগামী ১১ এপ্রিল ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আ’লীগের একঝাঁক নবীন-প্রবীণ মনোনয়ন প্রত্যাশা করায় সর্বত্র গুঞ্জন উঠেছে ‘কার হাতে উঠছে নৌকা প্রতীক।’ চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশও।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রবীণ রাজনীতিবিদ নুরুল আলম বলেন, ‘নির্বাচনে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করে চমক সৃষ্টির নজির আওয়ামী লীগের রয়েছে।’ এবারের বোয়ালখালী পৌর নির্বাচনে চমক আসতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, আগামী ১১ এপ্রিল পৌর নির্বাচনে ভোট গ্রহণ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) অনুষ্ঠিত হবে। পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছেন ৫২ হাজার ৮শত ৩৮জন। এরমধ্যে ২৭ হাজার ১৩৫ জন পুরুষ ভোটার ও ২৫ হাজার ৭০৩জন মহিলা ভোটার। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন পত্র দাখিলের জমাদানের শেষ দিন ১৮ মার্চ, বাচাই ১৯ মার্চ ও প্রত্যাহার ২৪ মার্চ।