খরণদ্বীপের ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোকারমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের

চট্টগ্রাম বোয়ালখালীতে ইয়াছমিন আক্তার এ্যানী (২৪) নামে মুসলিম এক নারীকে হত্যা ও সনাতন নিয়মে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগে শ্রীপুর খরণদ্বীপের ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোকারম ও আওয়ামী লীগ নেতাসহ আরো ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (চট্টগ্রাম) আদালতে ওই (নং-১২৯/২০২১) ওই মামলাটি দায়ের করেন নিহতের মা রোকসানা বেগম।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন-চট্টগ্রাম বোয়ালখালী উপজেলার ৮নং শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের রতন চৌধুরী (বয়স উল্লেখ নেই), সাধন মহাজন (৬০), নিমাই দে (৪৫), শংকর দত্ত (৩৩), অরবিন্দ মহাজন (৫০), অরুন দাশ (৫০), দিলীপ দেব (৪৫), প্রদীপ সুত্রধর (৪০), রাম প্রসাদ (৩৮), রনি দে (৩০), অরুপ মহাজন (৪২), সমর দাশ (৫৫), রবীন্দ্র ধর (৬০), নিপুন সেন (৬০), মো. মোকারম চেয়ারম্যান, ইউসুফ প্রকাশ ড্রেজার ইউসুফ (৩৫) ও পবন দাশ (৫৫)।

আদালত অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতকে অবহিত করার জন্য বোয়ালখালী থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ইয়াছমিন আক্তার এ্যানির সাথে যুবক বাবলু দের পরিচয়। পরে প্রনয় এবং তা বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়। বাবলু এবং এ্যানির সংসারে ইশা মনি নামক দেড় বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।

বাবলু হিন্দু ধর্মাবলম্বী হয়েও মিথ্যা পরিচয় দিয়ে এ্যানিকে বিয়ে করেন। পরে এ্যানি জানতে পারায় এ বিষয়ে তাকে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। চাপ থেকে মুক্ত হতেই সুকৌশলে তাকে ঠান্ডা মাথায় খুন করে হিন্দু রীতিতে পুড়িয়ে দেওয়া হয় লাশ। যাতে কোন রকম প্রমাণ পাওয়া না যায়। পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকান্ড কে হার্ট এ্যাটাকে মৃত্যু প্রচার করে হিন্দু হিসেবে দাহ করে জ্বালিয়ে দেন।

ঘটনার দিন (৩ আগস্ট) বাগেরহাট থেকে না আসা পর্যন্ত লাশ দাফন না করার অনুরোধ জানালেও তারা তার মেয়েকে পুড়িয়ে ফেলে বলে অভিযোগ মায়ের।

এজাহারে আরও বলা হয়, হত্যার আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যেই তাকে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। কোন মৃত্যু সনদ কিংবা পুলিশের অনুমতি ছাড়াই কেবল চেয়ারম্যান, মেম্বার, চৌকিদারের দোহাই দিয়ে তার মেয়েকে পুড়িয়ে ফেলার মধ্য দিয়ে তারা বিষয়টি অতিদ্রুত ধামাচাপা দিতে চেয়েছে।

এবিষয়ে বাদির আইনজীবি এএম জিয়া হাবিব আহসান জানান, হত্যার অভিযোগ এনে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করা হয়। বোয়ালখালী থানার ওসিকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোবারক বলেন, সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমরা যেন নৌকা প্রতীক না পাই এবং আমাদের হেয় করার জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা মামলাটি করিয়েছে।’

ওদিকে, বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, আদালত থেকে আদেশ পাবার সাথে সাথে এসআই সুমন কান্তিদে কে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি দেখছেন।’

এসআই সুমন কান্তিদে বলেন, যতদুর শুনেছি গার্মেন্টসে চাকরি করার সময় ইয়াছমিন আক্তার এ্যানীর সাথে বাবলু দের পরিচয় সূত্রে প্রেম-বিয়ে। একটা সন্তানও রয়েছে। আরো জেনেছি মেয়েটি মুসলিম ছিল। গতকাল মাত্র মামলা রুজু হলো তদন্ত চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।’