ফটিকছড়ির সবুজ চা-রাবার বাগান ও মাইজভান্ডারের নান্দনিক নির্মানশৈলি মন কাড়ে ভ্রমন পিপাসুদের

Ramgarh 5.1মোঃ আবু মনসুর প্রতিনিধি ফটিকছড়ি : পাহাড়ি টিলায় উচু-নিচু সারি সারি সবুজ চা বাগান। মেয়েরা মাথায় ঝুঁড়ি বেঁধে চা তোলে। সবুজ নৈসর্গ্যে হারিয়ে যেতে মন চায়। প্রতিটি চা বাগানে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্য। চিরাচরিত নিয়মে মহিলা চা শ্রমিকদের সবুজ চা সংগ্রহের মনোরম দৃশ্য আর তাদের ঘাম ঝড়ানো কষ্ট আগন্তুকের হৃদয় ব্যাকুল করে তোলে…………..। সারি সারি রাবার বাগান। লাল মাটির পেয়ালায় সাদা কষে ভরা। রাবার কষ সংগ্রহকারী শ্রমিকের কঠিন কষ্টের দৃশ্য। পাখির কলতান। লাল মাটির সবুজ পাহাড়ের আঁকা-বাঁকা পথ যত গভীর জঙ্গলে যাই আরো যেতে ইচ্ছে করে…………….। এমনি চিত্র চোখে পড়বে ফটিকছড়ির ১৭টি চা বাগান ও ৪টি রাবার বাগানে বেড়াতে গেলে। তাই ভ্রমন পিপাসুরা ছুটে আসতে পারেন ফটিকছড়িতে। প্রায় ২শত বছর পূর্বে বৃটিশ শাসনকালে সৌখিন বৃটিশরা এদেশে চা শিল্প গড়ে তোলে। সেই সুবাধে পাহাড় বেষ্টিত বৃহত্তর ফটিকছড়িতে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্ণফুলী চা বাগান সহ ১৭টি চা বাগান গড়ে উঠেছে। এই চা বাগানকে কেন্দ্র উত্তর চট্টগ্রামের বৃহত্তর বানিজ্য কেন্দ্র নাজিরহাট পর্যন্ত রেল লাইন গড়ে ঊঠেছিল। এশিয়ার বৃহত্তম দাঁতমারা রাবার বাগান সহ ৪টি রাবার গড়ে উঠেছে। চা ও রাবার বাগানে হাতি, হরিণ, বন বিড়াল, বন মোরগ, খরগোশ, অজগর সাপ সহ আরো অনেক দূর্লভ প্রাণী দেখা পেতে পারেন। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেষে আরেক অপরূপ দর্শণীয় স্থান রামগড় চা বাগান। এই বাগানের চর্তুদিকে পাহাড়ি বনাঞ্চল, ঢাকা-খাগড়াছড়ি মহা সড়ক ও ভারতীয় সীমান্ত হওয়ায় বাগানের অপরূপ মনোরম দৃশ্য পথিকের মন সহজেই কেড়ে নেয়।ছোট-ছোট খাল-ছড়া চা-রাবার বাগান, গাড়িটানা-ভূজপুর-নাজিরহাট সড়কে ভূজপুর হালদা রাবার ড্যাম আকর্ষনীয় করে ভ্রমন পিপাসুদের। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর কর্ণফুলী চা বাগান ফটিকছড়ি থানা সদর থেকে ৫ কি.মি পূর্বে লেলাং ইউনিয়নে অবস্থিত। আর ভূজপুর থানার পূর্ব পার্শে¦ হালদা নদীর পার ঘেষে অবস্থিত কৈয়াছড়া চা বাগান। এই বাগান দুটির পাশে বৃহত্তর দুই পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির সীমান্ত। খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি ও সেমুতাং গ্যাস ক্ষেত্রকে ঘেষে নারায়নহাট ইউনিয়নে অবস্থিত ইস্পাহানী গ্রুপের নেপচুন চা বাগান। বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রনে পরিচালিত ঢাকা-খাগড়াছড়ি সড়ক ঘেঁষে দাঁতমারা রাবার বাগান, গহিরা-হেয়াকো সড়ক ঘেঁষে তারাখো রাবার বাগান, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের পাশে কাঞ্চন নগর ও রাঙ্গামাটিয়া রাবার বাগান অবস্থিত হওয়ায় ভ্রমন পিপাসুদের নজর সহজেই সেদিকে পড়বে।
পেড্রোলো গ্রুপের মালিকানাধীন হালদা ভ্যালী ও রামগড় চা বাগানের সিনিয়র ব্যবস্থাপক মো: জাহাংগীর আলম বলেন, চা চাষ একটি সৌখিন চাষাবাদ ও ব্যবসা। বাগান ম্যানেজার এর বাংলো গুলো সৌখিন ভাবেই তৈরী। বলতে গেলে একটি ম্যানেজারের বাংলো এক একটি পর্যটন কেন্দ্র। এসব দেখতে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী এখানে ভিড় করে। তিনি বলেন সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে এসব পর্যটন স্পটগুলো ভ্রমন পিয়াসিদের জন্য আরো মোহনীয় করে গড়ে উঠতে পারে।
মাইজভান্ডার:
দেখে যারে মাইজভান্ডারে হইতেছে নুরের খেলা…….. গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী ইসকুল খুলেছে…………. এমনি অনেকে মাইজভান্ডারী গানের আসর দেখতে পাবেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফে। এটি একটি ধর্মীয় আধ্যাত্মিক সাধনার স্থান। গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী হযরত মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক) ১৮২৬ সালে জম্ম গ্রহন করেন। এই তরিক্বার অন্যতম প্রাণ পুরুষ সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভান্ডারী, সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী, সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারীর মাজার শরীফও এখানে।
প্রতিদিন লাখ লাখ আশেক ভক্ত এখানে ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে মহান অলীগণের মাজার জেয়ারত করতে আসেন।
থাকা খাওয়া:ফটিকছড়ি সদরে রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের বিশাল বাংলো। ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে এখানে থাকতে পারেন। চা বাগানে থাকতে হলে সংশিষ্ট চা বাগানের অনুমতি ক্রমে ব্যবস্থা হতে পারে। ফটিকছড়ি, নাজিরহাট, হেয়াঁকোতে রয়েছে বেসরকারী পর্যায়ে আবাসিক হোটেলের ব্যবস্থা। আর মাইজভান্ডার শরীফের যে কোন মঞ্জিলে অতিথি হতে পারেন অনায়াশে।