ফটিকছড়িতে অপহরনের দুদিনেও উদ্ধার হয়নি কিশোর মিনহাজ

8434_nমোঃ আবু মনসুর প্রতিনিধি, ফটিকছড়ি : ফটিকছড়িতে ডাকাতির পর অপহৃত গৃহকর্তার ছেলেকে দুইদিন পরেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অপহৃতকে উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও পুলিশ একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়েও কোন সফলতা পায়নি। অপহরনের দু’দিন পরেও নিজের ছেলের কোন হদিস না পাওয়ায় শোকে হতবিহবল হয়ে পড়েছেন অপহৃত কিশোরের মা রেজিয়া। এ ছাড়া প্রবাসী পিতাও রয়েছে উৎকন্ঠার মধ্যে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে অপহৃতকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে। তবে কোথায় কিভাবে তাকে রাখা হয়েছে তার কোন সঠিক সন্ধান মিলছেনা প্রশাসনের কাছে । মুক্তিপন বা অন্য কোন শর্ত দিয়ে কোন ধরনের যোগাযোগও করা হচ্ছেনা অপহরনকারীদের পক্ষ থেকে। স্থানীয় সুত্র জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার পাইন্দং ফকিরাচান ভূইয়া বাড়ীর প্রবাসী আফসারের ঘরে ডাকাতির পর কিশোর মিনহাজকে অপহরন করে নিয়ে যায় অজ্ঞাতনামা ডাকাতরা। এ ঘটনার সাথে স্থানীয় এবং পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা জড়িত থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছেন গ্রামবাসী। ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ(তদন্ত) বিদ্যুত কুমার বড়–য়া বলেন, অপহৃতকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি বলেন অপহৃত কিশোরকে পার্শ্ববর্তী লক্ষীছড়ির গহীন অরন্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এদিকে ফটিকছড়িতে একর পর এক ডাকাতি এবং অপহরনের ঘটনায় জনমনে আতংক বিরাজ করছে। উপজেলার সীমান্তবর্তী পার্বত্য জেলার মানিকছড়ি ও লক্ষীছড়ি কেন্দ্রিক পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপ স্থানীয় কিছু বাঙ্গালি দুর্বৃত্যের সাথে আতাঁত করে মুক্তিপন আদায়ের জন্য এসব কাজ করছে বলে একাধিক সুত্র জানায়। সুত্র জানায়,গত বছরের শেষ দিকে উপজেলার নানুপুর খিরাম এলাকায় বেশ কয়েকজন বাঙ্গালিকে অপহরন করে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা। এ ছাড়া ইউনুচ নামের এক বাঙ্গালিকে অপহরনের পর হত্যাও করা হয়। বাকীরা মুক্তিপনের মাধ্যমে ছাড়া পায়। চলতি মাসের গত সপ্তাহে নানুপুর এলাকা থেকে তিতন শ্রমিককে অপহরন করে উক্ত সন্ত্রাসী বাহিনী। পাঁচ দিন আটক থাকার পর মুক্তিপনন এবং মুচলেখা দিয়ে ছাড়া পায় তারা। গত মাসের দ্বিতয়ি সপ্তাহে উপজেলার ফকিরাচান মাদার্সা ঘাটা নামক এলাকায় হেয়াকো ফটিকছড়ি সড়কে সিএনজিতে ডাকাতি করে দুর্বৃত্তরা। এসময় বেশ কয়েকজন যাত্রীকে কুপিয়ে জখম করা হয়। গুরুতর আহত হয় দাঁতমারা এলাকার জব্বার নামের এক ছাত্র। উপজেলার দাঁতমারা এবং নারায়নহাট ইউনিয়নের পশ্চিমে পাহাড়ী এলাকায়ও বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে গত বছরের শেষের দিকে। এসব ঘটনার সাথেও এ পাহাড়ি সনন্ত্রাসীরা জড়িত রয়েছে বলে জানান স্থানীয় সুত্র গুলো। এ ছাড়া ফকিরাচান এলাকার মনির ডাকাত সম্প্রতি জেল থেকে জামিনে এসে এ কাজের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে পূনরায়। সংঘবদ্ধ গ্রুপটি এসব অপকর্মের পর পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে আশ্রয় চলে যাওয়ার ফলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে নানা রকম বাধার সম্মুখীন হন প্রশাসন। নানুপুর ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ ওসমান গনি বাবু বলেন এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাঙ্গালিরাও জড়িত রয়েছে। প্রতিটি অপহরনের ঘটনায় মুক্তিপনের টাকা থেকে তারা কমিশন পায়। লক্ষীছড়ি জোনের আওতাধীন নয়াবাজার সেনা ক্যাম্পের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন অপহৃত কিশোর মিমনহাজকে উদ্ধারে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।