দক্ষিন চট্টগ্রামে সিএনজি স্টেশনে চলছে অবৈধ গ্যাস বিক্রি

imagesইমরান বিন মুছা, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম): দক্ষিন চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্পটে ভ্রাম্যমান সিএনজি স্টেশনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস। কোন প্রকার আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে ঝঁকিপুর্ণভাবে ট্রাকে সিলিন্ডার ভর্তি করে ভ্রাম্যমান সিএনজি ষ্টেশনের অবৈধ গ্যাসের ব্যবসা চালছে অবাধে। এর ফলে যেকোন ধরনের দুর্ঘটনা ও জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের কর্মকর্তাদের ধারনা। এ ভ্রাম্যমান সিএনজি স্টেশন নিয়ে শংকিত এবং আতংকিত এর পার্শ্ববর্তী দোকান মালিকরা। যেকোন সময় বিষ্পোরনের অশংকায়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী একটি ট্রাকে ৬০-৭০টি গ্যাসের সিলিন্ডার স্থাপনের মাধ্যমে সিএনজি চালিত গাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করছে প্রকাশ্যে। এসব ব্যবসায়ীরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনকে ম্যানেজ করে চালিয়ে যাচ্ছে ভ্রাম্যমান সিএনজি স্টেশনের মাধ্যমে এ অবৈধ গ্যাসের ব্যবসা। কিন্তু কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে তাদের বিরুদ্ধে নিচ্ছেনা কোন পদক্ষেপ। একের পর এক বাড়ছে ঝুঁকিপুর্ণভাবে ট্রাকে স্থাপিত ভ্রাম্যমান সিএনজি স্টেশন।
দক্ষিন চট্টগ্রামে পটিয়া ছাড়া অন্য কোথাও বৈধ সিএনজি স্টেশন নেই। পটিয়া থেকে সিএনজি গ্যাস আনতে গেলে দক্ষিন চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার সিএনজি চালকদের দিনের কয়েক ঘন্টা ধরে তাদের অপেক্ষা করতে হয়। দীর্ঘক্ষন সময় ধরে অপেক্ষা করতে করতে চালকরা ক্ষুদ্ধ এবং বিরক্ত হয়ে ওঠে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চন্দনাইশ,সাতকানিয়া,লোহাগড়া ও চকরিয়া এলাকায় গড়ে উঠেছে ১১টি অবৈধ ভ্রাম্যমান সিএনজি স্টেশন। নাম প্রকাশে অনিচ্চুক কেরাণীহাট এলাকার এক সিএনজি চালক জানান,এর মধ্যে প্রথম অবৈধভাবে ভ্রাম্যমান সিএনজি গ্যাস স্টেশন গড়ে উঠে কেরানীহাট রাস্তার মাথা এলাকায় ১টি,এ ভ্রাম্যমান স্টেশনের লাভ দেখে অন্যরা উৎসাহী হয়ে চকরিয়া ও পেকুয়ায় ৪টি,সাতকানিয়া বিওসির মোড় এলাকায় ১টি,সাতকানিয়া বান্দরবান সড়কের আশশেফা হাসপাতালের পিছনের দিকে ২টি ভ্রাম্যমান সিএনজি স্টেশন গড়ে উঠে। এছাড়াও লোহাগড়ার বটতলী স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ১টি,ছদাহা টাইমক্যাপে রেষ্টুরেন্টের পাশে ১টি ও চন্দনাইশের দোহাজারীতে আরো ১টি করার প্রক্রিয়া চলছে। এসব অবৈধ সিএনজি স্টেশনের মালিকরা পেশায় কেউ চালক আবার অনেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলে জানা যায়। মালিকরা জানান এ ব্যবসায় লাভ বেশী হওয়ায় তারা আগের পেশা থেকে এ পেশার দিকে ঝুঁকে পড়েছেন বেশী। ঝুঁকিপুর্ণভাবে অটোরিক্সাতে এভাবে গ্যাস সরবরাহ দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা এতে কোন ধরনের ঝুঁকি নেই বলে জানায়। প্রতিটি সিলিন্ডার ঝুঁকিমুক্ত কিনা তা যাচাই করার জন্য প্রতিটি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা দিতে হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ভ্রাম্যমান সিএনজি ব্যবসায়ীরা জানান,৩ টনের একটি ট্রাক ভাড়া করে ৫০টি সিএনজি সিলিন্ডার স্থাপন করে একটি পরিপুর্ন ভ্রাম্যমান সিএনজি স্টেশন তৈরী করতে খরচ পড়ে প্রায় ৯ লাখ টাকা। আর ট্রাকের উপর সিলিন্ডার স্থাপনের কাজটি করা হয় চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায়। ৩ টন ওজনের প্রতিটি ট্রাক মালিককে ভাড়া দিতে হয় ৪২ হাজার টাকা। আর প্রতিটি সিলিন্ডার ১২ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকায় কিনতে হয়। চট্টগ্রামের কিছু অসাধু ব্যাক্তি এসব সিলিন্ডার সরবরাহ করে। প্রতিটি ৯০ ঘনমিটারের ৫০টি সিলিন্ডারে গ্যাস ভর্তি করতে লাগে ২৮ হাজার টাকা। গভীর রাতে যখন ভীড় কমে যায় তখন চট্টগ্রামের বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে ট্রাকভর্তি সিলিন্ডারগুলোতে গ্যাস ভর্তি করা হয়। ভ্রাম্যমান সিএনজি স্টেশনের মালিকরা জানায় চাহিদা থাকায় এ ব্যবসা লাভজনক। দিনে বিক্রির পর প্রতি ট্রাকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ থাকে বলে জানায় এ ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে চালকরা জানায় শাহ আমানত সেতু এলাকার বৈধ স্টেশনগুলো থেকে ১৫০ পয়েন্ট গ্যাস নিতে গেলে ১৫০ টাকা লাগে। অপরদিকে দোহাজারীস্থ বিওসির মোড় এলাকার ভ্রাম্যমান সিএনজি স্টেশন থেকে প্রতিটি সিলিন্ডারে ১৫০ পয়েন্ট গ্যাস নেয়ার জন্য লাগে ৩০০ টাকা। সময় বাচানোর জন্য তারা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে গ্যাস নিয়ে থাকেন বলে জানান।