চবির ভিসি’র বিরুদ্ধে অনশন, আহত ৫ মুক্তিযোদ্ধা

ctg_freedom_bg_banglanews24_693956862চট্টগ্রাম : মুক্তিযোদ্ধা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নামে একটি সংগঠন উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার অপসারণের দাবিতে এ কর্মসূচীর ডাক দিয়েছিল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ড.আনোয়ারুল আজিম আরিফের বিরুদ্ধে প্রতীকী অনশন কর্মসূচীতে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচ মুক্তিযোদ্ধা আহত হয়েছেন।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে।

আহত মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, উপাচার্যের ভাতিজা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রফিউল হায়দার রফি এবং সাতকানিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু তাহেরের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

আহতরা হলেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ ইদ্রিস, সুভাষ চৌধুরী, আহমদুর রহমান, শশাংক বিমল চৌধুরী এবং নূরুল আলম চৌধুরী। পাঁচজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ভিসি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে জামায়াত-শিবিরের আখড়া বানিয়েছেন। শিবির ক্যাডারদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে আমি যখন আন্দোলন শুরু করি তিনি আমাকে ডেকে আপোষ করার প্রস্তাব দেন। আমি এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করলে তিনি ক্ষিপ্ত হন।

সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে দায়িত্বরত কোতোয়ালি থানার এস আই আমিনুর রসুল জানান, সকালে ইদ্রিসের নেতৃত্বে শ’খানেক মুক্তিযোদ্ধা ভিসিকে দুর্নীতিবাজ আখ্যায়িত করে অনশন পালনের জন্য প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন। আগে থেকেই সেখানে হাজির ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের আরেকটি দল।

ইদ্রিস অনশন শুরুর জন্য দাঁড়ালে সাতকানিয়া থেকে আসা লোকজন ভিসি’র পক্ষ নিয়ে ইদ্রিসকে ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যায়িত করে তাদের ধাওয়া দেন। এসময় তারা ইদ্রিসসহ তার পক্ষের মুক্তিযোদ্ধাদের মারধর শুরু করে। ইদ্রিসসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা একটি চশমার দোকানের ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নিলে সেখানে ঢুকেও তাদের মারধর করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত নিয়ন্ত্রনে আনে । ইদ্রিসসহ আহতরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে যায়। আর সাতকানিয়ার লোকজন চেরাগি পাহাড় এলাকায় গিয়ে সেখানে মানববন্ধন করে।

ইদ্রিস অভিযোগ করেন, রফি এবং আবু তাহেরের নেতৃত্বে কয়েক’শ সন্ত্রাসী আমাদের উপর হামলা করেছে।

এস আই আমিনুর রসুল বলেন, রফি হামলা করেছে বলে আমিও শুনেছি। তবে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে পাইনি। কিন্তু হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন যুবকও ছিল। আর আবু তাহেরকে মারমুখী অবস্থায় দেখেছি।

মোহাম্মদ ইদ্রিস এ ঘটনায় রাতে কোতয়ালি থানায় মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে সাতকানিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষে পাঠানো এক সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার আবু তাহের দাবি করেছেন, তাদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন চলাকালে ইদ্রিসের লোকজন মুক্তিযোদ্ধাদের উপর হামলা চালায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ইদ্রিসের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং গণধোলাই দেয়।

এর আগে ইদ্রিসের নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধা সংরক্ষণ পরিষদ ভিসি আনোয়ারুল আজিম আরিফকে ‘ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। তখন নিজের এলাকা সাতকানিয়ার মুক্তিযোদ্ধারা আরিফের পক্ষে অবস্থান নেন।

তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির বিভিন্ন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছে । এর মধ্যে জামায়াত-শিবিরের লোকজনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া অন্যতম।